ব্রিটেনে ব্রেক্সিটমন্ত্রীর পদত্যাগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস। দেশটির ব্রেক্সিট পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার দু’দিনের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি। খবর বিবিসি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দরকষাকষির দায়িত্ব দিয়ে ডেভিড ডেভিসকে ২০১৬ সালে মন্ত্রিসভায় আনেন থেরেসা মে। গত রোববার ডেভিসের পর তার দফতরের উপমন্ত্রী স্টিভেন বেকারও পদত্যাগ করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গার্ডিয়ান লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী মে তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল সোমবার পার্লামেন্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে ডেভিসের এই পদত্যাগ সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
পদত্যাগপত্রে ডেভিস লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মে যে নীতি ও কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, তাতে ব্রিটেন ইইউ ছাড়তে পারবে বলে তার মনে হচ্ছে না। জবাবে থেরেসা মে লিখেছেন, গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার সম্মতি পাওয়া প্রস্তাবকে যে ভাষায় ডেভিস বর্ণনা করেছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত নন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেভিস সরে যাওয়ায় তিনি দুঃখ পেয়েছেন। তবে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে দায়িত্ব তিনি এতদিন পালন করেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে চান।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের জন্য ডেভিসকে বাহবা দিয়ে রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার বোন বলেছেন, নীতি বাঁচাতে এটা তার সাহসী পদক্ষেপ। বোনের ভাষায়, ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মে’র প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ান লেভরি বলেছেন, সরকারে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, ডেভিসের পদত্যাগের পর মে’র হাতে কোনো কর্তৃত্বই আর থাকতে পারে না। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সামর্থ্য মে’র নেই।
২০১৬ সালের গণভোটে ব্রিটেনের জনগণ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। এই বিচ্ছেদকেই বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট, যা ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করতে দু’পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করার নিয়ে সমঝোতার বিষয় রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন করা।