বিশ্ব প্রযুক্তি

ব্রিটেনে স্বল্পপরিসরে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে হুয়াওয়ে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ স্বল্প পরিসরে প্রবেশাধিকার দিতে রাজি হয়েছে ব্রিটেন। যুক্তরাষ্ট্র ও নিজ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যের নিরপত্তা হুমকির সতর্কতা সত্ত্বেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রাংশে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ব্রিটেনকেও মোবাইলের সুপারফাস্ট নেটওয়ার্ক ফাইভজি নির্মাণে হুয়াওয়ের উপকরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। খবর: রয়টার্স।
গত মঙ্গলবার ব্রিটেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এ অনুমোদন দিতে সম্মত হয়। কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে শুধু এন্টেনার মতো ‘ননকোর’ উপকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিট উইলিয়ামসন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী পেনি মরডন্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশের বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মে অনুমোদন দেন।
বিশ্বে মোবাইল উপকরণ উৎপাদকারী হিসেবে বৃহত্তম হুয়াওয়ে। কিন্তু সম্প্রতি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চীন সরকারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে মিত্রদের তা বর্জন করার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোনোরকম অন্যায় কার্যক্রমের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে হুয়াওয়ে।
বিরোধীতাকারীরা বলছেন, আসলে ‘কোর’ ও ‘নন-কোর’ উপকরণগুলো পৃথক করা এমনকি ব্যাখ্যা করা কঠিন। তাই ফাইভজি নেটওয়ার্ক নির্মাণে বিষয়টি জটিলায় পরিপূর্ণ। তবে এটি এখনও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা অর্থ জোগায় বলে দাবি করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বে অস্বস্তিতে রয়েছে হুয়াওয়ে। এরই মধ্যে সিআইএ’র এমন দাবি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও চাপে ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সিআইএ জানিয়েছে, হুয়াওয়েকে অর্থের জোগান দেয় চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন, দ্য পিপলস লিবারেশন আর্মি ও চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৃতীয় একটি শাখা।
এর আগে ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে পোল্যান্ডে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে হুয়াওয়ের এক চীনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য ওই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়াং ওয়েজিং নামে ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। হুয়াওয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ওয়েজিং তার ‘ব্যক্তিগত কারণে’ গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে হুয়াওযয়ের সুনাম ক্ষুণœ করেছে।
বিশ্বে টেলিকম সামগ্রীর সর্ববৃহৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার পরই দুনিয়াজুড়ে চাপের মুখে পড়ে হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বেইজিং হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশকে রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করে। সরকারের হয়ে বিশ্বব্যাপী এ কাজ পরিচালনা করে হুয়াওয়ে।
২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়। হোয়াইট হাউজের গোয়েন্দা কমিটির পক্ষ থেকে হুয়াওয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সর্বশেষ..