ব্রেক্সিটে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে: লন্ডনের মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিটের পরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন লন্ডনের ব্রেন্ট শহরের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মেয়র পারভেজ আহমদ।

সচিবালয়ে গতকাল বুধবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ব্রেন্ট শহরের মেয়র বলেন, ‘বিনিয়োগের বিরাট একটি সুযোগ আছে এখন। ব্রিটেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে চলে আসে, তবে বাংলাদেশে ব্রিটেনের বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হবে। তবে সমস্যা একটাই প্রথম যখন বাংলাদেশে আসি, রাস্তাঘাটে বের হওয়ার পর বা এয়ারপোর্টে কিছু ছোট ছোট বিষয় (সমস্যা) ছিল যেটা আমি ফিল করি।’

‘ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে এগুলো খুব বড় কোনো বিষয় নয়, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক সময় বড় হয়ে যায়। এগুলো কীভাবে ইমপ্রুভ করা যায়?’ বলেন পারভেজ আহমেদ।

ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের কিছু ক্রাইসিস তৈরি হবে জানিয়ে মেয়র পারভেজ বলেন, ‘সেক্ষেত্রে বিশেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য কিছু অপরচুনিটি (সুযোগ) আসছে। যদিও আমরা এটা নিয়ে এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। আমাদের চিন্তায় ছিল না, আমরা (ব্রিটেন) ইইউ থেকে বেরিয়ে যাব। সব তো হয়ে গেছে, আজ হোক কাল হোক, এটা হবে। সেই হওয়াতে আমরা বাংলাদেশিরা বাংলাদেশ থেকে কীভাবে বেনিফিট নিতে পারি, সে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি, আমরাও বাংলাদেশ থেকে কীভাবে বেনিফিট পেতে পারিÑসে জিনিসটিও ডেভেলপ করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে না পারলে আমরা পেছনে পড়ে যাব।’

ব্রেন্ট শহরের মেয়র বলেন, ‘আমাদের সার্ভিসগুলো ইমপ্রুভ করতে হবে। এটা করতে হলে আমাদের কিছু জিনিস সেখানে করতে হচ্ছে। রাইট পারসনকে রাইট জবে দিতে হবে। এগুলোই আমরা তুলে (তথ্যমন্ত্রীর কাছে) ধরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনও ব্রিটেনে মানুষের দরকার। রাইট স্কিল পারসন দরকার আছে প্রত্যেক সেক্টরে। কারি শিল্পে ইউরোপিয়ান লোক দিয়ে চলবে না।’ তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যারা ব্রিটেনে আছেন, তাদের শিক্ষায় সমস্যা, চাকরিতে সমস্যা, কর্মে সমস্যা, বিনিয়োগে সমস্যা দেখা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে আজ মেয়র সাহেবের সঙ্গে বৈঠকটা আমাদের প্রবাসীদের সম্পর্কে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে সাহায্য করবে।’

যুক্তরাজ্যের সফল বাংলাদেশিদের প্রচারের ক্ষেত্রে বিটিভি ও তথ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে ইনু বলেন, ‘যাতে বাংলাদেশের জনগণ বোঝে কীভাবে ওখানকার (ব্রিটেন) স্থানীয় সরকার চলছে, কীভাবে বাংলাদেশিরা নির্বাচিত হচ্ছেন, সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, কীভাবে কারি ইন্ডাস্ট্রি প্রসার লাভ করেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাস থেকে বাংলাদেশে এলে প্রবাসীরা কী ভূমিকা রাখেন এবং কী সমস্যার সম্মুখীন হন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেটা দরদের সঙ্গে দেখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতি যতটুকু চাঙ্গা হয়েছে, এর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খুঁটির একটি হচ্ছেন প্রবাসীরা। অপর দুটি খুঁটি হচ্ছে পোশাক শিল্প ও গ্রামের চাষি।’

বাংলাদেশের প্রবাসীদের ‘স্বর্ণ প্রবাসী’ নাম দিয়েছেন জানিয়ে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘স্বর্ণ প্রবাসীরা যখন বাংলাদেশে আসবেন, তাদের পরিবার যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন, থাকতে পারেনÑসেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের। ব্যাপারটা গণমাধ্যমেরও দেখার দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘স্বর্ণ প্রবাসীদের পাশে তথ্যমন্ত্রণালয় থাকবে তার প্রচার ভূমিকা নিয়ে।’