বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ কমবে ব্রিটেনে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দেশটিতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যা আগামী বছর সংশোধন করা কঠিন হয়ে যাবে। খবর: বিবিসি।
ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স (বিসিসি) তাদের পূর্বাভাসে বলছে, চলতি বছর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক তিন শতাংশ। ২০২০ সালে এ প্রবৃদ্ধি আরও কমে এক শতাংশে পৌঁছাবে এবং ২০২১ সালে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক দুই শতাংশ। সংগঠনটি বলছে, ব্রেক্সিট নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় এবং চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হওয়ার সম্ভাবনায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যৌথ বিনিয়োগে না গিয়ে মজুদের মতো পরিকল্পনা নিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিসিসি।
সংগঠনটি বলছে, ২০১৯ সালে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এক শতাংশ হ্রাস পাবে। কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ কমার কারণে উৎপাদনশীলতা ও মজুরি প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতির ওপর। বিসিসির মহাপরিচালক অ্যাডাম মার্শাল বলেন, রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এরই মধ্যে অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে। ফলে অনেক কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। তার ওপর খারাপ খবর হলো, জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে অনেক কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সরিয়ে নিয়েছে। কিছু বিনিয়োগ হয়তো আর ব্রিটেনে ফেরত আসবে না।
বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইইউ’র অন্যান্য দেশে তাদের ব্যবসা স্থানান্তর করেছে। বেশ কিছু গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রিটেনে তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সংকুচিত করেছে।
গত মার্চ মাসে বিএমডব্লিউ জানিয়েছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে তারা কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে ফেলতে পারে। ২০১৮ সালের চার প্রান্তিকেই ব্যবসায় বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে বিনিয়োগ হ্রাস। এদিকে ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পন্ন হলে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ বাড়াবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিসিসি বলছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে সম্পদ স্থানান্তর, ব্রিটেনে ব্যবসায়ের উচ্চ ব্যয় এবং ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে, সে বিষয়গুলোয় অনিশ্চয়তার কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়বে না।
ব্রেক্সিট এরই মধ্যে ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে ব্রিটিশরা ব্রেক্সিট গণভোটে ‘হ্যাঁ ভোট’ দিলে পাউন্ড নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে এবং বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মতে, ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্রিটেনের অর্থনীতি এ দুই বছরের মধ্যে দুই শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়নে থাকার সিদ্ধান্ত নিলে এমনটা হতো না বলেই মনে করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গণভোটের পর প্রতি সপ্তাহে দেশটির উৎপাদন কমেছে ১০০ কোটি ডলার এবং সপ্তাহের হিসাবে তা দাঁড়ায় ৬০ লাখ ডলার। এখন পর্যন্ত ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কে কাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি। তার আগেই ক্ষতির পরিমাণ এমনটা দাঁড়িয়েছে।

 

সর্বশেষ..