সম্পাদকীয়

ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়া কাম্য নয়

পুঁজিবাজার মুখ থুবড়ে পড়েছে। লেনদেন কমে এখন শোচনীয় পরিস্থিতি। ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সব কাঠামোতেই এর প্রভাব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পড়ছে। তবে ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা দেশের পুঁজিবাজর বিকল হয়ে যাওয়ার মতো নাজুকতাকেই ইঙ্গিত করে। ২০০৯-১০ সময়ে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দিয়েছিল, তারাই বেশি সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারকে কেবল সামনের দিকে ভালো উদ্যোগ নিলেই হবে না, পাশাপাশি সংকটের পেছনের গলদ ও চক্রান্ত শোধন করতে হবে।

গত ছয় মাস ধরে পুঁজিবাজারের পতনদশা আরও তীব্রতা পেয়েছে। ফলে এ অর্থবছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অন্তত ৫০টি ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হয়েছে। আগামী এক মাসে আরও আট থেকে ১০টি শাখা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেগুলোয় ইতোমধ্যে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অন্য উৎস থেকে অর্থ জোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণের আশায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন এতদিন। তিন হাজার কোটি টাকার দৈনিক লেনদেনের রেকর্ড ২০১০ সালের পরে হোঁচট খেলেও ব্রোকারেজ হাউজ লাভে ছিল। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজের জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ব্রেইক ইভেন স্তর মাড়িয়ে লেনদেন এখন ৩০০ কোটির নিচে নেমে আসাই হাউজগুলো ঋণাত্মক ধারায় পড়লেও গত ছয় মাসে পরিস্থিতি উত্তরণে কর্তৃপক্ষের কোনো যথাযথ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কার্যত পুঁজিবাজারের অস্থিরতা দূর করে লেনদেন ও বাজার মূলধন বাড়ানোর মধ্য দিয়েই ব্রোকার হাউজগুলোর এ সংকট নিরসন সম্ভব হবে। বাজার পরিস্থিতি, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও বিএসইসির কোম্পানি অনুমোদনের অনুঘটক বিষয়গুলো উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারের পতন ঠেকানো সম্ভব নয়। চক্রান্তকারীদের পাতা ফাঁদে বিএসইসি বাইব্যাক নীতিতে বিভিন্ন ছোট ছোট কোম্পানির প্রবেশ ঠেকাতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির কাছ থেকে রিটার্ন না পেয়ে হতাশায় পুঁজিবাজার মুখী হবে না। তারল্য সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাব না মিটমাট করলেও লেনদেন বাড়ানো সম্ভব হবে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে .৩% থেকে .৫% কমিশন নিয়ে তা থেকে .০৫% উৎসে কর পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠান চালানোর মোট খরচের অর্ধেক আয় করে কখনোই তারা ব্রোকারেজ হাউজ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

তাই চক্রাকারে প্রভাবিত এই নাজুকতাকে মিটমাট করতে গেলে অবশ্যই সরকারকে পুঁজিবাজার থেকে ফটকাবাজ উচ্ছেদ করে সুশাসন আনয়ন ও  সার্বিক পরিস্থিতির উত্তরণ করতে হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */