হোম প্রচ্ছদ ব্লক মার্কেটে এসআইবিএলের বড় লেনদেন

ব্লক মার্কেটে এসআইবিএলের বড় লেনদেন


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নিয়াজ মাহমুদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচার কোনো ঘোষণা ছিল না। তবুও গতকাল বৃহস্পতিবার ব্লক মার্কেটে কোম্পানিটির প্রায় ১১৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এর নেপথ্যে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে তিনটি শিল্প গ্রুপ যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন বাজারে রয়েছে। যদিও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ‘কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই’ বলে জানিয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ব্লক মার্কেটে এসআইবিএলের ১১৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে ব্যাংকটি মোট তিন কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ১০৮টি শেয়ার সাতবার হাতবদল করেছে। এ সময় কোম্পানিটির সর্বনি¤œ ২৮ দশমিক ৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩২ টাকায় শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অন্যদিকে মূল মার্কেটে গতকাল কোম্পানিটির সমাপনী বাজারদর ছিল ৩৩ দশমিক ৬০ টাকা। অর্থাৎ ব্লক মার্কেট থেকে সংগ্রহের প্রথম দিনেই এ শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের শেয়ারপ্রতি এক টাকার অধিক মুনাফা হয়েছে। গত কয়েক কার্যদিবসে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২৬ টাকা থেকে ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩৩ টাকা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ‘দর বাড়ার পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই’ বলে জানায় এসআইবিএল।

এ বিষয়ে কথা হয় এসআইবিএলের কোম্পানি সচিব হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই। কোম্পানির ভালো পারফরম্যান্স থাকায় বরাবরই শেয়ার চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর ভালো লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছে।’

ব্লক মার্কেটে হঠাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসআইবিএলের কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ঘোষণাও দেননি এবং ক্রয়-বিক্রয় করেননি। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এটা করতে পারেন বলে আমাদের ধারণা।’

এদিকে বাজারে গুজব রয়েছে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারণ করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে যাচ্ছে দেশের তিনটি বড় শিল্পগ্রুপ এস আলম, ইউনাইটেড গ্রুপ এবং কনফিডেন্স গ্রুপ।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির কোম্পানি সচিব আরও বলেন, ‘এসআইবিএল যেহেতু তালিকাভুক্ত কোম্পানি, সেহেতু যে কেউ এর শেয়ার কিনতে পারেন। তবে পরিচালনা পর্ষদে কে বা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আসছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

উল্লেখ্য, সাধারণ বাজারের চেয়ে ব্লক মার্কেটের মধ্যে তফাত হলো, ব্লক মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। এমনকি ক্রেতা-বিক্রেতা মিলে শেয়ারের দামও আগে থেকে ঠিক করে নেন। আর পরিচালকরা ক্রয়-বিক্রয় করলে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে থাকেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্লক মার্কেটে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলো হলো: ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, ন্যাশনাল ফিড, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ও রেনেটা লিমিটেড।

জানা গেছে, দেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের মালিকানায় বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের ১৪ শতাংশের বেশি শেয়ার। ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও গ্রুপটির হাতে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও কমার্স ব্যাংকের বড় অংশের শেয়ার। এছাড়া আরও সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের শেয়ার আছে এস আলম গ্রুপের হাতে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ।

এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আসতে আগ্রহী এস আলম গ্রুপ। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের কিছু প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এসআইবিএলের তিন শতাংশ শেয়ার কিনেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি, যা সম্প্রতি ডিএসইর কাছে পাঠানো ব্যাংকটির শেয়ার ধারণসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।

 

এ সম্পর্কে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একজন পরিচালক জানান, ‘এসআইবিএলের পর্ষদে স্থান পেতে অনেকেই আগ্রহী। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম তিন শতাংশ এবং কেডিএস গ্রুপ পাঁচ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। তবে বিদ্যমান পর্ষদ সদস্যদের পদ শূন্য না থাকায় তাদের পক্ষে এখনই পর্ষদে স্থান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এসআইবিএলের পর্ষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তাই চাইলেই তাদের পক্ষে পর্ষদে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

এদিকে ইসলামী ব্যাংকের এস আলম গ্রুপ প্লাটিনাম এনডেভার্স, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল, এবিসি ভেঞ্চার, গ্র্যান্ড বিজনেস, এক্সেল ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং, হযরত শাহজালাল (র.) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির নামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনে, যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১৪ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু সম্প্রতি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা এখন ট্রেডিং ব্যবসায়ের চেয়ে ব্যাংক ব্যবসায় বেশি মনোযোগী। ফলে বিভিন্ন ব্যাংকে আমাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আগামীতে বিভিন্ন ব্যাংকে আমাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এজন্য শেয়ার কেনা হচ্ছে।’