বড়লেখায় অবাধে চলছে টিলা কাটা

আবদুল হাই, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় টিলার মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রভাবশালীরা অবাধে টিলা কাটলেও তা রোধে প্রশাসন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অব্যাহত টিলা কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবেন না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে, কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে চলছে অবাধে টিলা নিধন।

এতে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। চলতি বছরের জুন মাসে সদর ইউনিয়নের ডিমাই এলাকার বিওসি কেছরিগুল (বতাউরা) গ্রামে ভারি বর্ষণে টিলার মাটি ধসে মা-মেয়েসহ গত চার বছরে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টিলা ধসে শিশুসহ অসংখ্য ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার পাহাড়ি এলাকা সদর ইউনিয়নের ডিমাই, কেছরিগুল, গঙ্গারজল, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর, হাকায়িতি, পূর্ব হাতলিয়া, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বোবারথল, মোহাম্মদনগর, ছোটলেখা, ঘোলসা, চণ্ডিনগর, মুড়াউল, অফিস বাজার, উত্তর শাহবাজপুর ইউপির আতুয়া, বড়-আইল, নান্দুয়া, পূর্ব বানীকোনা, শ্রীদরপুর, দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঁঠালতলী) ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে টিলা কাটা হচ্ছে। এসব টিলার মাটি বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত দুই শতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টর। এগুলোর অধিকাংশেরই নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র। ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি বহন করায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এসব ট্রাক বা ট্রাক্টর আটকের ব্যাপারে প্রশাসন রয়েছে নীরব।

তবে টিলা কাটার বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরপর শুরু হয় অভিযান। করা হয় দু-একজনকে জরিমানা। অভিযানও চলে কিছুদিন। তারপর থেমে যায় এ অভিযান। আর এ সুযোগেই টিলা কাটা চালিয়ে যায় প্রভাবশালীরা। এসব অপকর্মের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধার নামও।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে করমপুর এলাকায় টিলা কাটার দায়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার (টিলার মালিক) ও ট্রাক্টর চালক দিনার হোসেনকে জরিমানা করে প্রশাসন। এর পরও টিলা কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহেল মাহমুদ জানান, টিলা কাটা আইনবিরোধী কাজ। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। অর্থাৎ আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। টিলা কাটা বন্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনের প্রয়োগ করা হবে।