বড় কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

বেসরকারি খাতের ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি বা দেশি ভালো কোম্পানিগুলো যদি বাজারে আসে তাহলে তারা অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে কোম্পানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু তারা এই টাকাটি নিতেও অনীহা প্রকাশ করছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন এনবিইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ এবং কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান।

সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে আমাদের উন্নতি হয়েছে। পোর্ট, নতুন নতুন ইপিজেড বা অবকাঠামোগত উন্নয়নÑএগুলো থেকে যেটি জাতীয় আয় বা উৎপাদন হয়ে আসে ওই জিনিসগুলো এসে ব্যাংকে জমা হয় জাতীয় সঞ্চয় হিসেবে। কিন্তু আমাদের সব অর্জন বা উন্নতি ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে এসে ভেসে যাচ্ছে কিছু মানুষের পকেটে, সেকেন্ড হোমসহ অন্যান্য জায়গায়। সব মিলিয়ে দেশের সামাজিক ক্ষেত্রে, উৎপাদনে এবং অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে। তবে আর্থিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে পুঁজিবাজার এবং ব্যাংক খাতে উন্নয়ন তো হয়ইনি বরং এর সুশাসনে ধস নেমেছে; যা আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি বা দেশি ভালো কোম্পানিগুলো যদি বাজারে আসে তাহলে তারা অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে কোম্পানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু তারা এ টাকা নিতেও অনীহা প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পুঁজিবাজারে দুই শতাংশ শেয়ার কিনলে একজন ডিরেক্টর হওয়া যায়। এভাবে চারজন ডিরেক্টর হতে মোট আট শতাংশ শেয়ার লাগে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের আশঙ্কা থাকে মালিকানা হারানোর। কারণ ব্যাংক থেকে মন্দ ঋণ নিয়ে কোম্পানির ছয় থেকে ১০ শতাংশ শেয়ার কিনে মালিক হয়ে যাচ্ছে অনেকে।

অনুষ্ঠানে তৌফিকুর রাহমান বলেন, লক্ষ করলে দেখবেন যদি কেউ ব্যবসা করে তার মূল নীতি হচ্ছে আস্থা। আর আমরা বর্তমানে আস্থাহীনতায় ভুগছি এবং কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। ব্যাংক সরকারকে এবং সরকার ব্যাংককে বিশ্বাস করতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ফলে সামগ্রিকভাবে একটি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজার শক্তিশালী বা গতি ফিরে না আসার একটি কারণ হচ্ছেÑবিদেশি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেউই বাজারের প্রতি আস্থা পাচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসছে না, যেগুলো বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া খুবই জরুরি। সরকার অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু তারা আসছে না। কারণ সরকারি কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারক মহলে যারা আছেন তারা মনে করছেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তাদের দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা বেড়ে যাবে। এখন তারা যেভাবে কোম্পানিটি পরিচালনা করছে, তা বাজারে এলে সেভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। আর এমন ভয় কাজ করছে তাদের মধ্যে। যে কারণে তারা বিভিন্নভাবে এ ব্যাপারে দেরি করছে। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের যারা নীতিনির্ধারক মহলে আছেন তারা সঠিকভাবে তাদের চাপ দিতে পারছে না। তাছাড়া অধিকাংশ দেশে দেখা যায়, সরকার ও সংস্থার বাইরে চাপ সৃষ্টিকারী আলাদা একটি দল থাকে, যেটি আমাদের দেশে নেই।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম