ভরা বর্ষায় হাওরে…

বর্ষা ও শীত উভয় ঋতুই সিলেটে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। এই বিভাগের অন্যান্য দর্শনীয় জায়গার পাশাপাশি আপনি প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওর থেকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হবিগঞ্জে ঘুরতে গেলে একসঙ্গে দুই স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। একদিকে হাওর-বাঁওড়, অন্যদিকে পাহাড়ের রূপ।
হবিগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন চা-বাগান আর পাহাড়, উত্তরে হাওর। জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে লাখাই, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার প্রায় সম্পূর্ণটাই হাওর এলাকায় অবস্থিত। হাওরের অনেক এলাকায় রাস্তা তৈরি হলেও এখনও অনেক জায়গায় অথই জল থই-থই করছে, যা আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অন্য এক দিগন্তে। বিশেষ করে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর আপনাকে বেশি আকৃষ্ট করবে। বিভিন্ন ধরনের নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারেন হাওরের বিভিন্ন স্থানে অথবা হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারবেন।
বিভিন্ন ছোট-বড় বিল নিয়ে এই হাওরের সমাহার। বিলগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষাকালে এই হাওরের এক অনবদ্য রূপ বিমোহিত করে পর্যটকদের। চারদিকে শুধু পানি আর পানির খেলা। সে এক অপরূপ দৃশ্য। নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়ালে পানির ঢেউয়ের সঙ্গে নৌকার দোল খাওয়াটা উপভোগ করতে পারবেন। দেখা মিলবে বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখির। আর এসব পাখির সঙ্গে মিতালি গড়তে মানুষের কলকাকলিও বাড়ে হাওরপারে।
নৌকা দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে ছবির মতো সুন্দর অনেক দৃশ্য। কখনও জেলেরা নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করছেন, কখনওবা শিশুরা হাওরের অল্প পানিতে সাঁতার কাটছে কিংবা ফুটবল খেলছে। কোথাও আবার গ্রামের গৃহবধূরা কলসি কাঁখে বাড়ি ফিরছেন।

যেভাবে যাবেন
রাজধানীর কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় কয়েকটি ট্রেন। ভাড়া ১২০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। আর সময় লাগবে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের উপবন এক্সপ্রেসে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। নামতে হবে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে। তারপর সিএনজিচালিত রিকশাযোগে হবিগঞ্জ সদর। সেখান থেকে সিএনজিচালিত রিকশা অথবা বাস দিয়ে যেতে পারেন বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ হাওরে।
বাসে চড়েও যাওয়া যাবে। শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, ইউনিক প্রভৃতি পরিবহনের বাসে চড়ে যেতে পারেন। রাজধানীর মহাখালী থেকে এনা পরিবহনের বাসেও যেতে পারেন। ভোর থেকে শুরু করে রাত ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এসব বাস পাবেন। বাসে যেতে সময় লাগবে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। ননএসি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এসি ৮০০ টাকা।

কাজল সরকার