ভাটারায় চার প্রতিষ্ঠান সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপরিশোধিত পানি বাজারজাত করায় রাজধানীর ভাটারায় চারটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি চার হাজার জার ধ্বংস করেছে বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই পানি বাজারজাত করছিল।

অভিযানের শুরুতে ছোলমাইদ এলাকার ‘এ ওয়ান ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের একটি কারখানায় যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কারখানার বিএসটিআইয়ের অনুমোদন থাকলেও পরিশোধন ছাড়া কলের পানি জারে ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগে কারখানা মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ‘ওসামা ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের কারখানাও অনুমোদিত, তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপরিশোধিত পানি বিক্রি করায় কারখানার ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলামকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুই কারখানায় অভিযানের খবর পেয়ে পাশের ‘ক্রিস্টাল ড্রিংকিং ওয়াটার’ কারখানার মালিক-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। পরে যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে কারখানা সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কোকাকোলা এলাকায় গিয়ে ‘ঢালি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পান আদালত। এ কারখানাতেও পানি পরিশোধনের কোনো যন্ত্রপাতি নেই। একসঙ্গে কয়েকটি নল দিয়ে অপরিশোধিত পানি জারে ভরে নেওয়া হচ্ছিল। এ কারখানার মালিককে পাওয়া না গেলেও আওলাদ হোসেন এবং রাসেল মিয়া নামে দুই কর্মীকে আটক করে তাদের তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, বিএসটিআই’র অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও অপরিশোধিত পানি নিম্নমানের জারে ভর্তি করে বিক্রি ও বিতরণ করার অপরাধে বিএসটিআই অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ ও ২০০৩ (সংশোধিত)-এর ক্ষমতাবলে সর্বমোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি বলেন, ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তারা তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র বৈধ পেয়েছেন। তবে তারাও নিয়ম মানেনি। ‘আমরা যে ছয়টা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি তাদের কেউই পরিশোধিত পানি বাজারজাত করে না। শুধু ওয়াসার পানিই নয়, টিউবওয়েলের পানিও জারে ভরে ছেড়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যে তিনটি কারখানার অনুমোদন আছে, সেগুলোরও পরিবেশ ভালো নয়। তারা যে শর্তে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পেয়েছিল তার কোনোটিই পালন করেনি। তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ল্যাব নেই। যে জারে পানি দেয় সেগুলোও ফুড গ্রেড নয়। পানি পরিশোধনের যন্ত্র থাকলেও তা ব্যবহার না করে সরাসরি পাইপ দিয়ে পানি ভরে দেয়।

তিনি বলেন, এসব অভিযোগে চারটি কারখানা সিলগালা, দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক রিয়াজুল হকসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় র‌্যাব-১-এর সদস্যরা সহায়তা করেন।