ভাতওয়ালা ঝন্টু মিয়া

খাঁখাঁ রোদ কিংবা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাথায় একটি বাঁশের তৈরি ঝুড়ি নিয়ে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলেন ঝন্টু মিয়া (৫৫)। কুষ্টিয়ার গ্রাম থেকে শহরে যারা দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চাকরি করছেন, তাদের বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়াই তার মূল কাজ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার বাসিন্দা ঝন্টু মিয়া জানান, যখন সেতু ছিল না, তখন নদীর উত্তপ্ত বালির ওপর দিয়ে হেঁটে ভাতের পাত্র বাঁশের ঝুড়িতে করে নৌকা পার হতাম। অনেক কষ্ট করে সামান্য যা আয় হতো, সেটা দিয়েই চলত পরিবার। তিনি আরও জানান, যখন কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু বাস্তবায়ন হয়নি, তখন ভাতের বাটিগুলো পৌঁছে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সময়ে খেয়াঘাটে কুলির কাজ করতেন। তবে সেতু হওয়ায় সেই বাড়তি আয়ে ভাটা পড়েছে। এখন ভরদুপুরে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশের ঝুড়িতে করে ভাতের বাটি যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেন, ফলে ব্যস্ততার ছাপ ঝন্টু মিয়ার চোখে-মুখে।
বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশের ঝুড়িতে করে ভাত নিয়ে দোকানে দোকানে ঠিক সময়ে পৌঁছে দেন। সে থেকেই তিনি ‘ভাতওয়ালা ঝন্টু মিয়া’ নামে খ্যাত। এ শ্রম বিক্রিতে সারাদিনে যা পান, তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয় তার। আগে ভ্যানে করে তরকারি বিক্রি করতেন তিনি।

কুদরতে খোদা সবুজ