ভারতকে তোয়াক্কা না করেই চীনের প্রকল্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক বা ঘরোয়া আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যখনই কথা হয়েছে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সম্প্রতি একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভারতের আপত্তির তোয়াক্কা না করেই নিঃশব্দে সিপিইসির ৪৩টি প্রকল্প প্রায় শেষ করে ফেলেছে চীন, যা দেশটির মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবরের আওতাধীন। বাকি ১৫৭টি প্রকল্পের কাজও শুরু হতে চলেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতে। খবর আনন্দবাজার।
সিপিইসি নিয়ে ভারতের প্রধান আপত্তির কারণ, বাণিজ্য করিডোরটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে গিয়েছে। নয়াদিল্লি বারবার বেইজিংকে জানিয়েছে, ইসলামাবাদ এ এলাকাকে বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে। তাই ভারত চায় না, এখানে কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র পরিকাঠামো তৈরি করুক। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দোকলাম পরবর্তী পর্যায়ে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে একের পর এক কূটনৈতিক উপঢৌকন দিয়ে যাচ্ছে ভারত। নয়াদিল্লির স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোতে চাপ বাড়িয়েই চলেছে বেইজিং।
পরমাণু সরবরাহকারী গ্রুপে (এনএসজি) ভারতের অন্তর্ভুক্তি, পাকিস্তান জঙ্গি মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া- কোনো ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে না চীনকে। বরং ভারতের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলতে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে চীন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে একঘরে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। অথচ উহানে ১২ ঘণ্টা কথা বলেছেন দুই নেতা। সহযোগিতা বাড়াতে অনেক শব্দই খরচ করেছেন জিনপিং।
ভারত দীর্ঘদিনের অবস্থান বদলে এক-চীন নীতি মেনে নিয়েছে। তাইওয়ানগামী ভারতীয় বিমানের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে চীনের নামে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও সম্প্রতি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ পরিকাঠামো প্রকল্প থেকে সরে এসেছে নয়াদিল্লি। মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের একাধিপত্য খর্ব করার জন্যই গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার ত্রিদেশীয় অক্ষের সঙ্গে নয়াদিল্লি যুক্ত হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বেইজিংকে খুশি রাখতেই ভারতের এ সরে আসা। শুধু তাইওয়ান নয়, তিব্বত নিয়ে চীনের স্পর্শকাতরতার দিকটি মাথায় রেখে ফেব্রুয়ারি মাসে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামার অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য সরকারের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।