বিশ্ব বাণিজ্য

ভারতে সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে রুপির মূল্যমান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির হার কমেছে। মাথাচাড়া দিচ্ছে মূল্যবৃদ্ধি। প্রশ্নের মুখে কর্মসংস্থানও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান কমায় বাড়ছে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও। লোকসভা নির্বাচনের আগে যা চাপে রেখেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। এ অবস্থায় সরকারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি জোগাচ্ছে রুপি। গত সোমবার ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় মূল্য সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর: আনন্দবাজার।
ভারতীয় মুদ্রার দাম বাড়ার পাশাপাশি এ দিনও বেড়েছে শেয়ার সূচক। এ নিয়ে টানা ছয় দিন বাড়ল সূচক। সেনসেক্স ৭০ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৫ দশমিক শূন্য সাত পয়েন্টে। অন্যদিকে, নিফ?টি সূচক ৩৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট উঠে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৬২ দশমিক ২০ পয়েন্টে।
সোমবার এক ডলারের দাম এক ধাক্কায় ৫৭ পয়সা পড়ে যায়। বিদেশি মুদ্রার বাজার বন্ধের সময় প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৮ রুপি ৫৩ পয়সায়। গত অক্টোবরের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম ৭৪ রুপি ছাড়িয়েছিল। এখন তা নেমে এসেছে ৬৮ রুপিতে। গত এক মাসে ডলারের দাম কমেছে ২৮৭ পয়সা। এ অবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন, দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের চিত্রটি যখন ততটা উজ্জ্বল নয়, তখন বিচ্ছিন্নভাবে রুপির দাম কেন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে জোগান এবং চাহিদার স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই পড়ছে ডলারের দাম। ডলারের জোগান বৃদ্ধির প্রধান কারণ, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ। সূত্রের খবর, ওই সব প্রতিষ্ঠান চলতি মাসেই ভারতের বাজারে প্রায় ২৭ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে। এর জন্য মার্চে এ পর্যন্ত তাদের ভারতে প্রায় ৩৯০ কোটি ডলার আনতে হয়েছে। কারণ, ওই সব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ডলার এনে তা রুপিতে পরিণত করেই শেয়ারে বিনিয়োগ করে। তাই তারা বাজারে বিনিয়োগ বাড়ালে জোগান বাড়ে ডলারের।
দ্বিতীয়ত, রফতানি বৃদ্ধিও ভারতে বাড়িয়েছে ডলারের জোগান। ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্ট প্রোমশন কাউন্সিলের (ইইপিসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাকেশ শা বলেন, ‘চিরকালই অর্থবর্ষের শেষদিকে রফতানি বাড়ে। এ বারও ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে এ সময়েই রফতানি থেকে আয় করা ডলারের জোগান ভারতে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়েছে। ডলারের জোগান বাড়ায় কমেছে তার দাম।’ উল্লেখ্য, ভারতের রফতানিকারীরা পণ্যের দাম হিসেবে হাতে পান ডলার। তা ভাঙিয়ে রুপিতে পরিণত করেন। সেই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে সোনা এবং পেট্রোপণ্যের আমদানি কমেছে। ফলে এ খাতে কমেছে ডলারের খরচও।
যদিও ডলারের নিরিখে ক্রমাগত রুপির দাম বৃদ্ধি রফতানিকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। কারণ, রফতানি থেকে আয় করা ডলারের বিনিময়ে তারা এখন কম রুপি হাতে পাচ্ছেন। রাকেশ বলেন, ‘ডলারের দাম কমার ফলে এবার আমরা যে পণ্য রফতানি করব, তার দাম বাড়াতে হবে। এতে বিদেশে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা ভারতীয় রফতানি ক্ষেত্রের।’ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রফতানি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফিয়ো। এ ব্যাপারে রিজার্ভ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে তারা। তাদের বক্তব্য, মুদ্রার দাম বাধাহীনভাবে বৃদ্ধিও অর্থনীতির পক্ষে ভালো লক্ষণ নয়। এর ফলেও অস্থিরতা তৈরি হয়। শুধু রফতানি সংস্থা নয়, ভবিষ্যতে এর ফলে আমদানিকারীরাও বিপাকে পড়তে পারেন।

সর্বশেষ..