ভালোবাসায় সিক্ত আলোকচিত্রী আনোয়ার

শোবিজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকচিত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার আগে তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। এ সময় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মারিয়াম হোসেন এবং দুই ছেলে আকাশ হোসেন ও মেঘদূত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ মিনারে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত জায়গায় তাকে দাফন করা হয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব মান্নান ইলিয়াছ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, দৃক ও পাঠশালা, ছাত্র ইউনিয়ন, মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি, স্বাধীনতা শিক্ষক সোসাইটি, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম সোসাইটি, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ৭১, প্রথম আলো পরিবার, আরটিভি পরিবার, বিডি ফটোগ্রাফার্স ইউনিটি ক্লাব, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চিত্রালী পাঠক-পাঠিকা চলচ্চিত্র সংসদ, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ, শিল্পী ফকির আলমগীর, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, নাট্য ব্যক্তিত্ব খ ম হারুনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন শ্রদ্ধা জানান।
ফ্রান্স প্রবাসী আনোয়ার হোসেন গত ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন। ১ ডিসেম্বর সকালে পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হেভেন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৬ অক্টোবর পুরান ঢাকায় আনোয়ার হোসেনের জন্ম। বুয়েট থেকে স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে পড়ালেখা শেষ করে সিনেমাটোগ্রাফি পড়তে চলে যান ভারতে। ১৯৬৭ সালে আলোকচিত্রী হিসেবে জীবন শুরু করেন তিনি। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘পুরস্কার’, ‘অন্য জীবন’, ‘লালসালু’, ‘শ্যামলছায়া’ চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আনোয়ার হোসেন। কমনওয়েলথ গোল্ড মেডেলসহ ৬৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ফ্রান্সে চলে যান আনোয়ার হোসেন। ১৯৯৬ সালে ফরাসি মেয়ে মারিয়ামকে বিয়ে করেন।