এসএমই

ভাসমান মাছ চাষে সফল চাষি

তুলনামূলক বেশি উৎপাদন ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন ভাসমান মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চাষিরা।
উপজেলার মৃতপ্রায় নদ-নদীর ওপর একাধিক ভাসমান মাছের প্রকল্প রয়েছে। আড়িয়াল খাঁ, বিলপদ্মা ও পদ্মা নদীর পার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় একাধিক ভাসমান মাছ চাষের প্রকল্প। সন্ধ্যার পর এসব প্রকল্পে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে লাইটিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়, যা নদীর পাড়ের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব প্রকল্পে রয়েছে নিজস্ব পাহারাদার। তারা ভাসমান মাছের খাঁচার ওপর ছাউনি ঘর নির্মাণ করে রাতযাপন করেন।
ভাসমান মাছের খাঁচায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা সম্ভব। তবে চাষিরা অধিক লাভজনক হওয়ায় তেলাপিয়া মাছই বেশি চাষ করেন। একটি মাছের খাঁচায় ৮০০ থেকে ৯০০ মাছের পোনা ছাড়া যায়। সঠিক পরিচর্চা করা হলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বছর শেষে একটি পোনা মাছের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়। অর্থাৎ প্রতি খাঁচায় বছরে ৪০০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়।
মাছচাষি মাসুদ হাওলাদার বলেন, আমার ৯০টি খাঁচা আছে। এতে বছরে প্রায় সাড়ে চার টন মাছ উৎপাদন সম্ভব। তবে ভাসমান মাছ চাষে ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে পাট পচালে পানি নষ্ট হয়। ফলে মাছ মরে যেতে পারে। আবার স্থানীয় বাজার থেকে পোনা কেনার সময় নিম্নমানের পোনা মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া এ প্রকল্পে ব্যয় তুলনামূলক বেশি, যা সাধারণ চাষির পক্ষে বহন করা কষ্টকর। সরকারিভাবে এসব চাষিকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া উচিত। তাহলে মাছ উৎপাদন করে সফল হওয়া যাবে। অর্থাভাবে অনেক সময় আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে পোলট্রি ও ডেইরি ফার্মগুলো সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ সুবিধা পায়। অথচ মৎস্যচাষিদের জন্য এমন ব্যবস্থা নেই।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পর্যায়ের মৎস্য প্রকল্প সেবা সংরক্ষণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমার উপজেলার চারজন ভাসমান মৎস্যচাষিকে ১০টি করে খাঁচা ও মাছের পোনাসহ দুই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছি। আমরা সার্বক্ষণিক নদীতে গিয়ে ভাসমান মাছের প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণ করে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি। বর্তমানে এ উপজেলার আটটি প্রকল্পে ৫০০ খাঁচা রয়েছে। এখান থেকে বছরে ২০০ টন মাছ উৎপাদন সম্ভব।

মেহেদি হাসান শুভ

সর্বশেষ..