এসএমই

ভাসমান সবজি চাষে সফল হাফিজ

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার শোলাকিয়া কানিকাটা বিল একসময় পতিত অবস্থায় ছিল। কচুরিপানায় ভর্তি ছিল বিলটি। জেলা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এখানে ভাসমান সবজি চাষে স্থানীয় কৃষক হাফিজ উদ্দিনকে উদ্বুদ্ধ করে। এ ব্যাপারে তাকে কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়।
সহায়তায় ভাসমান বেডে চাষাবাদ করে হাফিজ উদ্দিন সফল হয়েছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভাসমান বেড তৈরি করে তার ওপর চাষ করেছেন পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়ো, লালশাক, লাউ, শসা, কলমিশাক, ঢেঁড়স ও পালংশাক। কয়েক মাসের মধ্যে শাকসবজি বাজারজাতের উপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারছেন, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, বাজারে ভাসমান বেডের সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পানির ওপর ভাসমান বেড করে হাফিজের মতো আরও অনেকে সফল হয়েছেন। তাই এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে প্রতিনিয়তই ঝুঁকছে কৃষক। চলতি মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন হাফিজ। এখনও অনেক সবজি বেডে রয়েছে।
হাফিক বলেন, জেলা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি অফিসাররা কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে ভাসমান সবজি উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ভাসমান বেডে সবজি চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া কোনো কীটনাশকও দিতে হয় না। ফলে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সবজি উৎপন্ন হয়। মাটিবিহীন এসব চাষাবাদ দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসে। এরই মধ্যে আমাকে দেখে অন্যান্য কৃষকের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, সব উপজেলাসহ আশেপাশের নিচু এলাকায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের ওপর নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছি আমরা। এখনকার চাষির মধ্যে সবজি চাষে বেশি সাড়া মিলছে। ভবিষ্যতে এ পদ্ধতি আরও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে কৃষকের মাঝে। এজন্য তারা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবেন কৃষি অফিস থেকে।

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ

সর্বশেষ..