সম্পাদকীয়

ভাসমান হাট রক্ষায় ত্বরিত উদ্যোগ কাম্য

বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের সীমানাঘেঁষা ২০০ বছরের পুরোনো পেয়ারা বাগানের পাশেই ভীমরুলি খালে গড়ে ওঠা শতবর্ষী ভাসমান পেয়ারা হাট ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়ছে এ হাট। খালের পাশে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন মার্কেট ও টং দোকানের বর্জ্য খালটির জল-পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। দখলদারি মহল বিভিন্ন অজুহাতে ও পেশিশক্তির দাপটে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলে সরু খালটির জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করায় বাজারটির ভবিষ্যৎ শঙ্কায় পড়ে যায়। বস্তুত ঐতিহ্যকে আর্থিক খাতে পরিণত করতে পর্যটনের সংশ্লেষ বিশেষ পরিকল্পনার ছকে সাজাতে হবে। কিন্তু পর্যটন এখানে চাপসহনীয় সীমাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ঐতিহ্য, পারিবৈশিক সৌন্দর্য এবং বাজার ও কৃষি অর্থনীতির সম্মিলিত মূল্যমানকে তোয়াক্কা না করে এই ধ্বংস প্রক্রিয়ায় জড়িতদের লাগাম টানতে উদ্যোগ নিতে হবে।
গত ৯ আগস্ট দৈনিক শেয়ার বিজে সংকটটি নিয়ে সরেজমিনে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। ভাসমান পেয়ারা বাজারটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বর্তমানেও টিকে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে যে আদৃত ভূষণ সৃষ্টি করেছে, তা কিছুদিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘণ্টাকালীন ডিঙি নৌকায় চেপে বাজার ভ্রমণে স্পষ্ট হয়েছে। এক্ষেত্রে পর্যটনের বাড়ন্ত প্রবাহ অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেও তাদের চাপসহনীয় পরিকল্পনার অভাবে বাজারটির অব্যবস্থাপনা চরমে উঠেছে। দেশের যে কোনো পর্যটন এলাকার মতো এখানেও অসাধু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সচেতনতার অভাবে সিন্ডিকেটটি ৩০ টাকার বিনিময়ে নামসর্বস্ব ইকোপার্ক তৈরি করেছে। যত্রতত্র টয়লেট, বসার জায়গা ও হোটেল বসানোয় পারিবৈশিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে। একটি মন্দিরের জায়গা সম্প্রসারণের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ মার্কেট স্থাপনা গড়ার পরিকল্পনা চলছে। হোটেলে ব্যবহার করা ওয়ান টাইম থালা ও চায়ের কাপ পানিতে ফেলা হচ্ছে। ফেলা হচ্ছে পলিথিনসহ সব ধরনের বর্জ্য। পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ট্রলার চলাচলে স্রোতের তোড়ে পেয়ারাভর্তি নৌকাও ডুবে যায়। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। ব্যবস্থা নেওয়া ও নজর দেওয়া হচ্ছে এমন ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে বাজার ধ্বংস কেবল ত্বরান্বিত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রেতা, বিক্রেতা ও দোকানিদের সচেতনতা বাড়িয়ে এবং পর্যটনের জন্য বিশেষ ও নিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণের ভেতর দিয়ে সংকট সমাধানে অসাধু মহলের গতিরোধ করে কর্তৃপক্ষ বাজারটির পারিবৈশিক ও অর্থনৈতিক মূল্যমান রক্ষা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..