ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

কলকাতার অন্যতম সুন্দর মনুম্যান্ট ভিক্টোরিয়া। উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলের সময় রানি ভিক্টোরিয়ার সম্মানে কলকাতায় এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
সাদা মার্বেলের অট্টালিকা ও তার পরিবেষ্টিত ৬৫ একর বাগিচা নির্মাণ করতে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের প্রধান নকশাকার ছিলেন স্থপতি স্যার উইলিয়াম এমারসন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে সর্বসাধারণের জন্য উদ্বোধনÑসামগ্রিকভাবে
নির্মাণের পেছনে প্রায় ১৫ বছর সময় লেগেছিল।
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতে তাজমহলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অবস্থান। এই মেমোরিয়ালের নকশা মুঘল, ভেনিসীয়, মিসরীয়, ডেকানি ও ইসলামি শৈলী থেকে গৃহীত হয়েছে। এসব শৈলীকে একত্রকরণের মাধ্যমে অনন্য রূপ পায় স্মৃতিস্তম্ভটি।
মকরানা মার্বেলে নির্মিত মেমোরিয়ালটি। বিস্তৃত মঞ্চ থেকে শুরু করে গম্বুজের ওপরের বাতি বা লণ্ঠন পর্যন্ত এর পরিমাপ ১৮৪ ফুট। অ্যাঞ্জেল অব ভিক্টোরি থেকে লণ্ঠনের চূড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে আরও ১৬ ফুট।
এখানে রানির রাজ্যাভিষেক, রাজকুমার আলবার্টের সঙ্গে তার বিয়ে, তার পুত্র সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের বিয়েসহ অনেক চিত্র রয়েছে। রানির পিয়ানো ও লেখার ডেস্কটিও এখানে সংরক্ষিত আছে। অনেক বিখ্যাত শাসকের পাণ্ডুলিপি রয়েছে এখানে। এর মধ্যে রয়েছে টিপু সুলতানের চিঠি, হাফিজের গজল, আকবরনামা, শাহনামা, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক অ্যারাবিয়ান নাইটস, রুবাইয়াত প্রভৃতি।
এখানে দেখা যাবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল গার্ডেন। স্বাচ্ছন্দ্যময় সময় কাটানোর অপূর্ব স্থান এটি।
রাজকীয় পরিবারের পাশাপাশি হেস্টিংস, কর্নওয়ালিস, ক্লাইভ ও ডালহৌসিরও ভাস্কর্য রয়েছে। একটি ভাস্কর্য সিংহের মাথা থেকে চারটি দিকে জলের নির্গমন, যা ভারতের চারটি নদীকে ইঙ্গিত করেÑগঙ্গা, যমুনা, কৃষ্ণা ও সিন্ধুকে।
কলকাতার জওহরলাল নেহরু রোডের পরে, হুগলী নদীর তীরে এর অবস্থান। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি কলকাতা পরিভ্রমণের সেরা সময়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া অত্যন্ত উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। তাই এ সময়টুকু এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

রাহুল সরকার