ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হোক

ভুটান আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল দেশটি। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি তারবার্তার মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ওই তারবার্তায় দেশটির তৎকালীন রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, বিদেশি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশের জনগণের মহান ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম অদূর ভবিষ্যতে সাফল্য লাভ করবে।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভুটান বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও এ সম্পর্ক ক্রমেই জোরদার হয়েছে। এখন বাংলাদেশে ‘বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী ভুটান। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতাদের বৈঠক হয়েছে। তাতে দু’দেশের মধ্যে ‘জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের লক্ষ্যে এফবিসিসিআই ও ভুটান চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো দেশের পক্ষেই বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হলেও তা আমাদের সম্প্রীতিকে জোরালো করবে বলেই প্রত্যাশা।
স্মরণ করা যেতে পারে, ভুটানের শেরিং তোবগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সে সময়ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ও ঢাকায় ভুটানের দূতাবাস স্থাপনের জমি বরাদ্দ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল। আমরা মনে করি, এসবের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের পথেও আমরা এগিয়ে যাব।
চুক্তি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা জরুরি। বেসরকারি খাতও তার উপযুক্ত ভূমিকা রাখুক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফলোআপ করা গেলে যে কোনো ক্ষেত্রেই সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির বাস্তবায়ন কঠিন নয়। দুই দেশের পর্যটন নিয়েও কাজ করার সুযোগ আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ালে দুই দেশই উপকৃত হবে।
দুই দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানো দরকার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই এটা প্রয়োজন। সমঝোতার পথ ধরে নিকটবর্তী দুই দেশে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ও এগিয়ে নেওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল নিয়ে বিবিআইএন নামে যে উপ-আঞ্চলিক জোট গঠনের কাজ চলছে, এর মাধ্যমে সেটি আরও জোরদার হবে বলেই প্রত্যাশা।
ফাইবার অপটিকসের মাধ্যমে যুক্ত হলে বিবিআইএনভুক্তদের পারস্পরিক যোগাযোগে বড় অগ্রগতি হবে। এ দেশগুলো উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পানি ব্যবস্থাপনা, বাঁধ নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলা ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারলে কেবল পারস্পরিক সম্পর্কই দৃঢ় হবে না, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে।