সারা বাংলা

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক বিচ্ছিন্ন

টাঙ্গাইলে বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

শাহরিয়ার সিফাত, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনার নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িও। এছাড়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে যমুনা নদীর বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীতে ১১০ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীতে ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি অধীক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর পানি কমলে এসব এলাকায় ভাঙন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পানির প্রবল স্রোতে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের বড় বাসালিয়ায় সেতুর পশ্চিম অংশের সংযোগ সড়কে ভাঙন ধরায় ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন টাঙ্গাইল এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (নতুন ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুডিগঙ্গা) ফাউন্ডেশন ট্রিটমেন্টের আওয়াত ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে পড়েছে। ফলে যে কোনো সময় পুংলী নদীর ওপর নির্মিত ৯৯ মিটার দীর্ঘ এ আরসিসি সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেতুটি ভেঙে পড়লে বন্ধ হয়ে যাবে টাঙ্গাইল সদর-কুইজবাড়ী-বড়বাসালিয়া হয়ে এলেঙ্গা যাবার সড়কটি। এছাড়া পুংলী নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে সেতুর পশ্চিম পাড়ের ১৫টি পরিবার। মগড়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো ভাঙনের জন্য দায়ী করছেন শুষ্ক মৌসুমে পুংলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে।
ভাঙনে গৃহহীন বড় বাসালিয়া গ্রামের দুলাল হোসেন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের জন্য এবার শুষ্ক মৌসুমে প্রভাবশালী লোকজন বাংলা ড্রেজার বসিয়ে সারা বছর অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাড় থেকে বালি উত্তোলন করেছে। ফলে নদীর পাড় গভীর হয়েছে আর মধ্যভাগ অগভীর রয়ে গেছে। এখন পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেতুর সংযোগ সড়কসহ বড় বাসালিয়া গ্রামের ১৫টি বাড়ি নদীতে চলে গেছে।
পুংলী নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বড় বাসালিয়ার লবণ ও মরিচ ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র সাহা জানান, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসে সেতু দেখে চলে গেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে আসেননি। বড় বাসালিয়ার গৃহহীন এ ১৫টি পরিবার কোথায় গিয়ে থাকবে, সে ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলন করে। এ বছর নদীর কালিহাতী অংশে ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়ের জন্য বালি উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে এ সেতুসহ বড় বাসালিয়া বেশ কয়েকটি পরিববারের ওপর। তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে সেতুটি রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথা এলজিইডির। তবে যদি পুংলী নদীর পাড় রক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম আজম জানান, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার পানির তোড়ে সেতুটির দক্ষিণ দিকের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী সেতুটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিদর্শন করেছেন। সেতুটি রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি কমে গেলে সেতুটি রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */