ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো

শাহরিয়ার সিফাত, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যা¤ু^লেন্স দুটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ফলে অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলাসদর হাসপাতালসহ অন্যত্র পাঠাতে স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে দুর্ঘটনাকবলিত ও অসুস্থ রোগীদের এখান থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোবাইক অথবা ব্যক্তিগত ভাড়া করা গাড়ির মাধ্যমে।
জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৯ সালে একটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হওয়ার পর ২০১০ সালে নতুন আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। নতুন অ্যাম্বুলেন্স আসায় আগের অ্যাম্বুলেন্সটি পরে থাকে পরিত্যক্ত অবস্থায়। কয়েক বছর চলার পর নতুন অ্যাম্বুলেন্সটিও বিকল হয়ে যায়। মেরামত না করায় এক বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সেটিও। ফলে মেরামতের অভাবে অ্যা¤ু^লেন্স দুটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের কোনো ধরনের উদ্যোগই গ্রহণ করছে না। ভূঞাপুর উপজেলার তিন লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতাল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়াও এ হাসপাতালের অধীনে রয়েছে ঘাটাইল উপজেলার কিছু অংশ। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। মুমূর্ষু রোগী পরিবহনে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স সরকারিভাবে বরাদ্ধ থাকলেও তা দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় জনগণের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত ও অসুস্থ রোগীদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হলে তাদের নিতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোবাইক অথবা ব্যক্তিগত ভাড়া করা গাড়ির মাধ্যমে। এতে নানা ভোগান্তির স্বীকার হয়ে অনেক মুমূর্ষু রোগী অক্সিজেনের অভাবে রাস্তাতেই মৃত্যুবরণ করতে দেখা গেছে। তাছাড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানিরও অ্যাম্বুলেন্স ভূঞাপুর উপজেলায় নেই। জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত অথবা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানান এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সামা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ও ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিলে তাদের কিছুই করার নেই। প্রতিনিয়ত তারা যোগাযোগ করছেন। তবে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে একটি নতুন অ্যা¤ু^লেন্সের প্রয়োজন।