সম্পাদকীয়

ভূমি অফিসকে জনবান্ধব করতে ব্যবস্থা নিন

দেশের সর্বাপেক্ষা বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসের তালিকার প্রথম দিকে থাকবে ভূমি অফিস। এতে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাবেক ভূমিমন্ত্রী বলছেন, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি নয়, ডাকাতি হচ্ছে। প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে জমি রেজিস্ট্রি করে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। ভূমি অফিসের দুর্নীতি কতটা প্রকট, সেটির বড় দৃষ্টান্ত হলো ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস বিক্রি। প্রতারকচক্র ভুয়া দলিলে সাবরেজিস্ট্রি অফিসটি বিক্রি করে দিয়েছে।
বর্তমানে অবস্থার যে তেমন উন্নতি হয়েছে, তা বলা যাবে না। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে ‘নোয়াখালীর ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদন। সেবাপ্রত্যাশীদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে কোনো সেবা পাওয়া যায় না।
ভূমি অফিসের দুর্নীতি প্রায়ই গণমাধ্যমে আসছে। দুর্নীতি কমিশনের (দুদক) ভূমি অফিসের দুর্নীতিসংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ভূমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমিকর, ভূমি রেকর্ড, খাসজমি এবং পরিত্যক্ত ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ টাকা ছাড়া কোনো সেবা পায় না। আমরা জানি, ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে এবং তার বাস্তবায়নও এগিয়ে চলেছে। কিন্তু ভূমি অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সেবাপ্রার্থীকারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে অবস্থিত ভূমি অফিসগুলো এক একটি অনিয়ম, অব্যবস্থা, ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি এসিল্যান্ড অফিসে নামজারি, মিসকেস, ভিপি সম্পত্তি লিজ, খাসজমি বরাদ্দ প্রভৃতি খাতে প্রায় অবাধে চলে অবৈধ লেনদেন। বিশেষ করে একজনের জমি আরেকজনের নামে নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। ভূমি অফিসে খুব ছোট পদে চাকরি করেও রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, এমন দৃষ্টান্ত অনেক।
ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে বেশিরভাগ পোস্টিং দেবে ভূমি মন্ত্রণালয়। হয়রানি কিংবা ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ আছে, এমন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করবেন ভূমিমন্ত্রী নিজেই। গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আশান্বিত হয়েছেন অনেকে। দক্ষ, আধুনিক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ শিগগির শুরু হবে। এর পাশাপাশি দুদক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */