সম্পাদকীয়

ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

চারদিকে অবিশ্বাস ছেয়ে গেলেও মানুষ ওষুধপথ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজের জীবনকে ছেড়ে দিতে রাজি, কিন্তু এ খাতের ব্যক্তি বা পণ্য আস্থা হারাতে বসেছে। রাজধানীতে ওষুধের ভুয়া করাখানার খোঁজ আগেই মিলেছে বহুবার। এবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিতে রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসির সংশ্লিষ্টতা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। কেবল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নয়, বরং রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এমন শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণ অসম্ভব। তবে অন্তত ছয় মাসের বাজার পর্যবেক্ষণ ও
তার প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে জনমনে সংকট নিরসনের প্রত্যাশা সৃষ্টি হওয়া অবাস্তব নয়। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
বিভিন্ন ফলমূলে ফরমালিনজাতীয় বিষ প্রয়োগসহ রাজধানীর নামিদামি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও প্রস্তুত খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ভেজালসংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ভেজাল খাদ্যের প্রভাবে রোগশোক বাড়ছে মানুষের। দেশে বর্তমানে প্রতিটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ওষুধ সেবন করছে। ভেজাল খাবার খেয়ে রুগ্ণ ব্যক্তি যে ওষুধ সেবন করছে, তাও যদি হয় ভেজালপূর্ণ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ, তাহলে তার চেয়ে ভয়ার্ত পরিস্থিতি কী হতে পারে! তাছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশকিছু ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বিক্রির নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ফার্মেসিগুলো মানছে না। অনেক ক্ষেত্রে কাশির ওষুধ হিসেবে কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্যও বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ফার্মেসিতে।
সরকারের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় অনেকটা সফলতা এলেও নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট নিরসনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে সর্বদা সজাগ থাকতেই হবে। নিয়মিত তদারকি ও তার প্রতিবেদন প্রকাশে অধিদফতরের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকাটাও বাঞ্ছনীয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে বিভিন্ন ফার্মেসি বা প্রতিষ্ঠানকে যে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে। কেননা লাভজনক ওষুধ ব্যবসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে অঢেল অর্থের মালিক হন এবং মুদ্রাস্ফীতির ফলে পুরোনো আইনে সাব্যস্ত আর্থিক দণ্ড তুচ্ছ মনে হতে পারে। তবে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো শাস্তিও প্রয়োগ করা হয়েছে। এটা বাহ্যত অমানবিক মনে হলেও রোগাক্রান্ত মজলুমের ওপর জীবননাশী প্রতারণা বা অসভ্যতার চেয়ে বেশি কিছু নয়।
সারা দেশে বর্তমানে অধিদফতরের পক্ষে ঝটিকা অভিযান চালাতে তদারকি দল গঠন করা হয়েছে। এ পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও তা যেন কেবল ‘বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস’কে ঘিরে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আটকে না যায়। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা সচেতনতা কর্মসূচিসহ আইনপ্রয়োগের মতো কঠোর কর্মসূচি সরকার গ্রহণ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

 

সর্বশেষ..