সম্পাদকীয়

ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে তদারকি চালু রাখুন

 

নিম্নমানের পণ্য ও সেবা বিক্রি করে গ্রাহক হয়রানির দৃষ্টান্ত নতুন নয়। গ্রাহককে সবই মেনে নিতে হতো। গ্রাহকস্বার্থ রক্ষায় ২০০৯ সালে পাস হয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন। এ আইন বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে বাজার তদারকি করে অপরাধ দমনের ক্ষেত্র তৈরি এবং অধিকার লঙ্ঘিত হলে ভোক্তাদের অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযানের এখতিয়ার রয়েছে।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর: তিন বছরে অভিযান ১৫ হাজার জরিমানা আদায় ৩৭ কোটি টাকা’ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ভোক্তা ও বিক্রেতারা সচেতন হচ্ছেন এবং ভোক্তাসাধারণ যে সুফল পাচ্ছেন, প্রতিবেদনে পরিবেশিত খবরে সেটিই প্রমাণ হয়।
খবরে জানা যায়, ভোক্তাদের অভিযোগ ছাড়াও স্বপ্রণোদিত হয়েও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এতে গত তিন বছরে প্রায় ১৫ হাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তথ্যমতে, পচা-বাসি বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ভেজাল পণ্য তৈরি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং নির্ধারিত দামের অধিক দামে পণ্য বিক্রিসহ সংঘটিত ভোক্তাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভিযোগ আসে ছয় হাজার ১৪০টি। এছাড়া সে বছর তিন হাজার ৪৩৭টি বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়। ২৫ শতাংশ হারে অভিযোগকারী ভোক্তাদের দেওয়ার সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ছয় কোটি ৭১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছর অভিযোগ জমা পড়ে ৯ হাজার ১৯টি। এছাড়া চার হাজার ৭৭টি বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সবগুলো অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়। আর জরিমানা আদায় করা হয় পন্থায় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। অভিযোগকারী ভোক্তাদের অংশ দেওয়ার পর বাকি ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার জমা দেওয়া হয়। ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত বিরোধে নিষ্পত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভূমিকা নিঃসন্দেহ প্রশংসনীয়। আগামী দিনে অধিদফতরের কার্যক্রম আরও জোরদার হলে ভোক্তারা হয়রানি ও প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবে। তদারকি অভিযান পরিচালনা ও বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্যের কুফল সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সচেতন করার জন্য শিক্ষা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়তে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করা গেলে তৃণমূলের ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।

সর্বশেষ..