আজকের পত্রিকা

ভোক্তা অধিকার রক্ষায় শৈথিল্য কাম্য নয়

প্রতি বছর রমজান মাস শুরুর আগে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু শেষমেশ তা তেমন কাজে আসে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা ঠিকই পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়। শুধু তাই নয়, নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পণ্যের বাড়তি দাম রাখার অভিযোগ উঠছে নিয়মিতই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে উদ্বেগও তাই বাড়ছে। ভোক্তাদের এতে নাভিশ্বাস উঠছে সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাধানের কথা বলেছেন হাইকোর্ট। এর আলোকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেই প্রত্যাশা।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, দামি হোটেলগুলোয় খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য সেবার দাম বেঁধে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি না থাকায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এতে উল্লেখ করা হয়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ৪০ টাকার স্প্রাইটের ক্যান ১৬০ টাকা রাখা হচ্ছে, ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে ভোক্তার সুরক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ কোথায়? এমন প্রশ্নও তুলেছেন আদালত। হোটেল-রেস্তোরাঁয় এভাবে বাড়তি মূল্য রাখা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
বিশেষত রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাদ্যের দাম বেশি রাখার অভিযোগ কিন্তু দীর্ঘদিনের। কিছু ক্ষেত্রে কয়েকগুণ বেশি দাম নেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরেও এমন অভিযোগে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজ তেমন হচ্ছে না বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়। ভোক্তা অধিকার নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।
ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন দুটি ঘটনা সামনে এসেছে। ৫২টি খাদ্যপণ্য বিএসটিআই’র মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া বাজারে প্রাপ্ত ৯৬টি দুধের মধ্যে ৯৩টিতে ক্ষতিকর উপাদান মিলেছে। সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে ব্যাপারগুলো সামনে এসেছে। অথচ এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সংস্থা রয়েছে। তারপরও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও দাম ঠিক না থাকা হতাশাজনক। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে বলে আমরা আশা করব। এছাড়া ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নেবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া যারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..