ভোগান্তিতে ফেনীর পাঁচ হাজার আবেদনকারী

প্রিন্টার মেশিনে ত্রুটি ও পাসপোর্ট বই সংকট

শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, ফেনী: দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন ফেনীর পাসপোর্ট আবেদনকারীরা। ঢাকায় প্রিন্টার মেশিনে ত্রুটি ও বই সংকটের কারণে পাসপোর্ট ডেলিভারি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি আবেদনকারী। নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি দিতে না পারায় সমস্যায় ভুগছেন ফেনী পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারাও।
জানা যায়, ঢাকায় প্রিন্টার মেশিন নষ্টের কারণে গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাঁচ হাজার পাসপোর্ট আবেদন আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। জরুরি প্রয়োজন হওয়ায় পাসপোর্ট নিতে আবেদনকারীরা প্রতিদিন এ অফিসে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। সাধারণ ভিত্তিতে তিন হাজার ৪৫০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত ২১ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মূলত ৯০-১০০ কর্মদিবস পর পাওয়া যাচ্ছে। আবার জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার ৯০০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ কর্মদিবসের মধ্যে। তাছাড়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ভিসা সহজীকরণ করায় সারা দেশ থেকে এক সঙ্গে বেশি আবেদন জমা পড়ায় পাসপোর্ট প্রিন্ট করতে একটু সময় লাগছে।
পাসপোর্ট ভোগান্তির বিষয় নিয়ে ফেনী ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল আলী আনসারি ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, ফেনীর বেশিরভাগ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে থাকে। তারা ছুটিতে এসে পাসপোর্ট নবায়নের (রি-ইস্যু) জন্য আবেদন করে তিন-চার মাসেও পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না। অনেকের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও পাসপোর্ট না পাওয়ায় মহাভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা যথাসময়ে আবেদন এপ্রুভাল না দেওয়ার কারণেও পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
একরামুল হক নামের এক প্রবাসী আবেদনকারী জানান, পাসপোর্ট ডেলিভারির সময় চলে গেলেও দফায় দফায় অফিসে এসে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। এতে ভিসার নির্দিষ্ট সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে ইতোমধ্যে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে তাগাদাও দেওয়া হয়েছে।
ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরেই এ সংকট চলছে। বর্তমানে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার পাসপোর্ট আটকে আছে। তবে হজযাত্রী, রোগী ও প্রবাসীসহ নানাবিধ জরুরি পাসপোর্টগুলো বিশেষ বিবেচনায় ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রুটি কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।