ভোগান্তি এড়াতে দরকারি প্রচারণাও কাম্য

7কোনো গ্রাহকের কাছে মোবাইল ফোনের ১৫টির বেশি সিম বা রিম থাকলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ উদ্যোগে তা নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিককালে যেসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, তা কারও অজানা নয়। ধারণা করা যায়, এসব প্রতিরোধেই এমন নির্দেশনা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অবশ্য এর আগে সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ ২০টি সিম রাখতে পারবেন একজন গ্রাহক। আমরা মনে করি, বিটিআরসির নির্দেশনা পরিপালনে গ্রাহকদের এগিয়ে আসা দরকার তাকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে। এতে দেশে সক্রিয় সিমের সংখ্যা হ্রাস পাবে বৈকি এবং বিঘ্নিত হবে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর স্বার্থ। তবু নির্দেশনার পরিপালন প্রয়োজন। গ্রাহকরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে না এলে এর শতভাগ পরিপালন কঠিন হবে। সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তদারকিও কাম্য। অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করা গেলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ হ্রাস পাবে বলেই মনে হয়।

কোনো গ্রাহক যদি তার অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় না করেন, তাহলে তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের সিমটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও খরচ যে বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন বিষয়টি গ্রাহকদের অবহিত করা। আমরা আগেও দেখেছি, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে অবহিত করে বিটিআরসি। কারও সিম যদি সক্রিয় না থাকে, তাহলে তার পক্ষে অবশ্য এ ধরনের বার্তা পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমরা চাইব, অন্যান্য মাধ্যমেও এ ব্যাপারে প্রচারণা চালাবে বিটিআরসি। প্রবাসী কোনো বাংলাদেশি কিংবা বাংলাদেশে কর্মরত কোনো বিদেশি নাগরিক এ নির্দেশনা না জানার কারণে ভোগান্তির শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশের বাইরে থাকা গ্রাহকদের কাছে কী পরিমাণ অতিরিক্ত সিম রয়েছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিটিআরসি যে সময় বেঁধে দিয়েছে, তা অতি সন্নিকটে। গ্রাহকদের কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত সিম রয়েছে, তা নিষ্ক্রিয় করতে এ সময় যথেষ্ট কি না; সেটিও বড় প্রশ্ন। আমরা আশা করব, সংস্থাটির নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন। গ্রাহককে যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া না হলে পরে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অতিরিক্ত সিমে থাকা ব্যালান্সের কী হবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে। গ্রাহক যেন তার ব্যালান্স ফেরত পান, সে ব্যাপারেও অপারেটরগুলোকে নির্দেশনা দিতে পারে বিটিআরসি। এটি যে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবাকেন্দ্রে বাড়তি ভিড় সৃষ্টি করবে, তাতে সন্দেহ নেই। ইচ্ছুক গ্রাহকরা যেন এক্ষেত্রে ভোগান্তিমুক্ত সেবা পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে মোবাইল ফোন অপারেটরের সেবাকেন্দ্রগুলোয়।