ভোলা-বরিশাল সেতুর স্থান নির্ধারণ

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, ভোলা: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অবশেষে ভোলাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। ভোলা-বরিশাল সংযোগ সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণসহ সেতু নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন একটি টিমের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। ভোলায় দুই ট্রিলিয়নের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কৃৃত হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে, আরও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠতে শুরু করেছে। কারখানায় উৎপাদিত পণ্য পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা যাবে এবং বিদেশে রফতানি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সভায় ভোলা-বরিশাল ব্রিজের সম্ভাব্যতা যাচাই (সার্ভে রিপোর্ট) উপস্থাপন করা হয়। রিপোর্টে তিনটি পয়েন্টে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হলে ভেদুরিয়া-লাহারহাট পয়েন্টেটিতে সেতু নির্মাণের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ উপস্থিত সবাই সম্মতি প্রদান করেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুজ্জামান জানান, ভোলা বরিশাল সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে গত বছর ভারতের স্টুপ, ইংল্যান্ডের কাউই এবং বাংলাদেশের ডিডিসি ও দেবকন কনসাল্টেন্ট নামের এ চারটি কোম্পানির যৌথ একটি পরামর্শক গ্রুপ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছিল। প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে।

পরামর্শক গ্রুপের প্রধান নিরমাল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রাথমিকভাবে তৃতীয়টি সাইটে (পয়েন্টে) সেতুটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। প্রথমটি হচ্ছে বরিশালের লাহারহাট ফ্রেরিঘাট থেকে ভোলার ভেদুরিয়া ফ্রেরিঘাট। দ্বিতীয়টি পটুয়াখালীর ধুলিয়া লঞ্চঘাট হয়ে থেকে ভোলার ভেলুমিয়া লঞ্চঘাট এবং তৃতীয়টি বরিশাল বাকেরগঞ্জের টুমচর থেকে ভোলার ভেলুমিয়ার গাজীরচর।

সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে লাহারহাট সাইটটিতে তুলনামূলক কম খরচে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে সচিব আরও বলেন, যত দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হবে তত দ্রুত সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।