দিনের খবর শেষ পাতা

ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন কার্যকর নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচে গেছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আর কোনো আপত্তি নেই। আসছে বাজেটে কোনো পণ্যে ভ্যাটের হার বাড়বে না বরং কমবে। আইনি কারণে ভ্যাট আইনের সব তথ্য এখন প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে আইন ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং ব্যবসাবান্ধব আইন হবে। সেটা বোঝানোর পর ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। ফলে এনবিআরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কোনো দূরত্ব নেই।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিজ কার্যালয়ে গতকাল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ এনবিআরের কর্মকর্তারা।
২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন সংসদে পাস হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে দফায় দফায় পিছিয়েছে এর বাস্তবায়ন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে এটি বাস্তবায়নে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু ওই বছর পরবর্তী দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয় এর বাস্তবায়ন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে উল্লেখ করে সম্প্রতি এনবিআরসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেয় এফবিসিসিআই। এতে আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ফের জটিলতার শঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গতকাল আলোচনায় বসেন অর্থমন্ত্রী।
গতকাল বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আর কোনো ‘আপত্তি নেই’। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছুটা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছিল; সেটি পুরোপুরি ‘কেটে গেছে’।
এফবিসিসিআইর বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার। দেশের উন্নয়নে আমরা অর্থমন্ত্রীর পাশে আছি। উনি আমাদের বলেছেন, কোনো পণ্যে কর বাড়বে না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমবে। তবে করের আওতা আরও বাড়বে। ভ্যাটের কারণে পণ্যের দাম বাড়ুক, এটা অর্থমন্ত্রী চান না। আমরা তার এ বক্তব্যে আস্থা রাখতে চাই।
আইনটি প্রণয়নের সময় সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকরের বিষয় ছিল। মূলত এ বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি ছিল। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বর্তমান অর্থমন্ত্রী একাধিক হারে নতুন আইন কার্যকরের ঘোষণা দেন। এখনও পর্যন্ত সেই মোতাবেক সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। ভ্যাটের চারটি হার হবে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন পণ্য ও সেবায় কোন হার কার্যকর হবে, সেটি খোলাসা না করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোন পণ্যে কী হারে ভ্যাট বসবে, ব্যবসায়ীরা তা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদের বলেছি, বিদ্যমান যেসব আইন আছে; তাতে বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোন পণ্যে কত শতাংশ হারে ভ্যাট বসবে, সে তথ্য প্রকাশের কোনো নিয়ম নেই। বাজেট ঘোষণার আগে এসব তথ্য প্রকাশ করা যায় না। আইনগত কারণে ভ্যাট আইনের সব তথ্য এখন প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং ব্যবসায়ীবান্ধব আইন হবে। সেটা বোঝানোর পর ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। যার ফলে এনবিআরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আর কোনো দূরত্ব নেই।’
আগামী ১ জুলাই থেকেই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা ‘সর্বাত্মক সহযোগিতা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দু-একদিনের কাজ নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া অর্থাৎ এটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পরও যদি কোথাও কোনো সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়, তাহলে তা জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব করতে পরিবর্তন করে সময়োপযোগী করা হবে। ভ্যাট আইন স্বচ্ছতার সঙ্গে ঝামেলাহীনভাবে আসছে, যা ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকলে তা পরবর্তী সময়ে সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা আমাদের কাম্য। ভ্যাট আইন সংস্কারে এফবিসিসিআই ও এনবিআরের যৌথ উদ্যোগে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করা হবে, যারা ভ্যাট আইন সংস্কারে ভবিষ্যতে কাজ করবে।’

সর্বশেষ..