সম্পাদকীয়

ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হোক

সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রক্রিয়াটি করদাতাদের কাছে দীর্ঘসূত্রী ও কখনও কখনও বিকল বলে মনে হয়। তবে সার্ভারের সমস্যা যদি নিরসন হয়েও থাকে, তবুও ভাষাগত ও প্রণালিগত দুর্বোধ্যের কারণে করদাতারা বিপাকে পড়ছেন; অনেক ব্যবসায়ী কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ কাম্য।
পুনঃনিবন্ধনের সময়সীমা গতকাল শেষ হওয়ায় নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধন উভয় প্রক্রিয়াতেই বাড়তি চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি করদাতারা সহজ উপায়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে না পারায় সৃষ্ট হতাশা নিশ্চয়ই উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনলাইন প্রকল্প পরিচালক করদাতাদের তথ্য দিতে অনাগ্রহের কথা জানান। কিন্তু যেখানে করদাতারা নিজেরাই বলছেন, নিবন্ধন বিলম্ব হওয়ায় তারা বন্দরে পণ্য ছাড় করাতে না পেরে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন; সেখানে তারা তথ্য দিতে কেন অনাগ্রহ দেখাবেন। সেক্ষেত্রে অনলাইন সার্ভারের দুর্বলতার অভিযোগটা যদি নাও থাকে, তবে কাক্সিক্ষত তথ্যের ভাষাগত দুর্বোধ্যতাকে নজরে আনা উচিত। বিজনেস ক্লাসিফিকেশন, এইচএস কোড, উপকরণ-উৎপাদন সহগের মতো কাক্সিক্ষত তথ্যগুলো দিতে করদাতারা কেন বারবার ভুল করছেনÑতা খতিয়ে দেখতে হবে এবং প্রয়োজনে তা সহজকরণ করতে হবে। তবে এইচএস কোড দেওয়ার পরও কেন ‘নট ভ্যালিড’ নোটিফিকেশন দেখানো হচ্ছে, সে বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তবে নতুন বাজেটের পর এইচএস কোডকে হালনাগাদ না করার বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী এইচএস কোডে বর্তমানে কোনো ঝামেলা যদি না থাকে, তবে করদাতাদের বোধগম্য করার সহজ কৌশল নেওয়া হোক। তবে সব তথ্য দিয়েও সপ্তাহখানেক কিংবা ২৪ দিন পর লাগাতার কেন ‘আন্ডার রিভিউ’ অবস্থায় স্থির থাকে? তথ্য ভুল থাকলে দ্রুত মূল্যায়ন-পরবর্তী কী কী ভুল হয়েছে, তা উল্লেখ করলে করদাতারা সংশোধন হতে পারেন। অবশ্য এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়ার পরও মেইল না পাওয়ার অভিযোগ তথ্য ভুল প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় না। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী জবাব দেবে? সে ক্ষেত্রে অনলাইন পরিচালনায় কোনা-না-কোনোভাবে যে অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়।
সামগ্রিকভাবে অনলাইন ফরম, করদাতাদের বোধগম্য ও অনলাইন অব্যবস্থাপনার জটিলতা মিটমাট করতে কর্তৃপক্ষ ভাষাগত সহজীকরণ এবং তথ্য ভুলের নোটিফিকেশনসহ যাবতীয় ফিডব্যাক দিয়ে করদাতাদের সহযোগিতা করবে বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..