ভ্যাট হ্রাসের সুফল নিশ্চিত করতে হবে

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো থেকে গ্রাহকরা যে ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে থাকেন, সেগুলোর মধ্যে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ গ্রাহকের মূল খরচ মোট ব্যয়ের ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এসবের মধ্যে আবার ভ্যাটের পরিমাণই বেশি। এই প্রায় ২২ শতাংশের ১৫ শতাংশই ভ্যাট হিসেবে দিতে হয় তাদের। জাতীয় বাজেটের খোঁজখবর যারা রাখেন, তাদের জানার কথা এ ভ্যাটটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ করেছে সরকার। তার মানে হলো, গত অর্থবছরেও ১০০ টাকার যে ইন্টারনেট ডেটা কিনতে হতো ১১৫ টাকায়, এখন তার দাম পড়ছে ১০৫ টাকা। দুর্ভাগ্যবশত এ দেশে অপচর্চা রয়েছে, বাজেটে কোনো পণ্য বা সেবার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাউকে কিছু না জানিয়েই হুট করে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর যেসব পণ্য বা সেবার দাম হ্রাস পায়, সেগুলোর ব্যাপারটা চেপে যাওয়াই যেন অনেকের প্রবণতা। সেজন্যই গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যয় না কমালে অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সম্প্রতি যে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, তাকে সাধুবাদ জানাতে চাইবেন সবাই।
খেয়াল করার মতো বিষয়, কল সেবা থেকে ডেটা সেবায় গ্রাহকের ঝোঁক বেড়ে যাওয়ায় কতিপয় অপারেটর এ সেবায় গ্রাহকদের প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে শেয়ার বিজসহ পত্রপত্রিকায়। পাঠকরা তা দেখেও থাকবেন। সমস্যা হলো, এসব নিয়ে যখন লেখালেখি হয় তখন কিছুদিন সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকে। এরপর সব কিছু আবার চলতে থাকে আগের মতো। লক্ষণীয়, ডেটা সেবার বেলায় ওই প্রতারণার ধারা ও গতি বিচিত্র। হয়তো দেখা গেল, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সেবার মূল্য কমানো হয়েছে ঠিকই; কিন্তু ওদিকে আবার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সেবার মান। এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন অপারেটরের ফোরজি ও থ্রিজি সেবা ঘিরে। সাম্প্রতিক ভ্যাট হ্রাসের প্রেক্ষাপটে তেমন কিছু যেন না ঘটে, তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। কেননা ইন্টারনেটের বেলায় সেবার দাম ও মান উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে আমরা অধিক জোর দিতে চাইব এ কারণেও যে, ডেটা সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয় গড়ে ১ হাজার কোটি টাকার কম নয়। সেই ভ্যাটে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় উল্লিখিত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে বৈকি। ফলে গ্রাহক কল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত এ সুবিধার যেন যথাযথ প্রয়োগ হয় তথা ভোক্তারা সুফল পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)।