দুরে কোথাও

ভ্রমণ সব সময়ই সুখকর অভিজ্ঞতা

জীবনমান উন্নত করে ভ্রমণ। নানাভাবে সুখী করে আমাদের। কিন্তু কীভাবে? তা জেনে নিতে পারেন অল্প কথায়
# বিশ্ব সম্পর্কে জানা ও শেখার উপায় বাতলে দেয় ভ্রমণ। আসলে ভ্রমণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ডিগ্রির চেয়ে বেশি শিক্ষা দেয়। হয়তো সেজন্যই সেন্ট অগাস্টিন বলেছিলেন, পৃথিবী একটি বই, যারা ভ্রমণ করে না তারা বইটি পড়েন না। ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, যে দেশে বেড়াতে যাবেন, সেখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিন্তা-ভাবনা, অভ্যাস, প্রথা, ইতিহাস প্রভৃতি জানা যায়
# জন্মভূমিকে জানার শিক্ষা দেয় ভ্রমণ। দেশের বাইরের চিন্তা বাদ দিন। নিজ দেশের কয়েকটি স্থান ভ্রমণ করুন। দেখবেন অনেক অজানা বিষয় চোখের সামনে উম্মোচিত হচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতিকে নবরূপে আবিষ্কার করে সুখবোধ করবেন। আপনার সংস্কৃতি কেন অনন্য, তা বুঝতে পারবেন। স্বদেশ নতুনভাবে উদ্ভাসিত হবে আপনার সামনে
# নিজেকে জানার সুযোগ করে দেয়। ভ্রমণ করলে নিজের সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিদেশে গিয়ে দেশের প্রতি টান অনুভব করবেন। জন্মভূমির প্রতি আপনার ভালো লাগা কতটুকু তা বুঝতে পারবেন। বিশ্বকে কতটুকু, জানেন কিংবা এর কতখানি অজানা তা বুঝতে পারবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপনার অবস্থা কেমন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ভাষার ওপর কতটা দখল রয়েছে, সামাজিকতায় কতটা পটু, তা জানার সুযোগ করে দেয় ভ্রমণ। দেশে ফিরে আগের সেই আপনাকে খুঁজে পাবেন না
# ভ্রমণ মানুষকে সহনশীল করে তোলে। চলার পথে প্রায় সবখানে নানা ধরনের মানুষের দেখা পাবেন। তাদের সঙ্গে আপনার মিল বা অমিল খুঁজে পাবেন। অর্থাৎ ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে শিখবেন। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শিখবেন। ভ্রমণ আপনাকে বৃহৎ মনের অধিকারী করে তুলবে
স অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ করে ভ্রমণ। ভ্রমণের ফলে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, তা ঘরে বসে জানা সম্ভব নয়। হয়ত অনেক সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি দেখতে পাবেন যা আপনার এলাকায় নেই। হয়ত এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পাবেন যিনি আপনার জীবনদর্শন বদলে দেবেন। আপনার ভাবনায় পরিবর্তন আনবেন। হয়তো আগে যা করেননি তা-ই করতে চাইবেন বেড়াতে গিয়ে
# আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা করে তোলে। ভ্রমণ নিঃসন্দেহে একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। নিজের ওপর নির্ভরশীল হতে শেখায়। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শেখায়। উপলব্ধি করতে পারবেন, পরিচিত কারও সাহায্য ছাড়াও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা যায়। নিজেকে অতীতের তুলনায় শক্তিশালী ও সাহসী ভাবতে শিখবেন
# ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভাষা একই হওয়া সত্ত্বেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গিয়েও অনেক নতুন শব্দ জানতে পারবেন। তাদের প্রকাশভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। ভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলে বেড়াতে গেলে তো কথাই নেই, আরও অধিক বিষয় জানা, শেখা ও বোঝার সুযোগ পাওয়া যাবে
# এসব অভিজ্ঞতা আপনার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করবে নিঃসন্দেহে। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে অনুভব করবেন, অতীতের তুলনায় বেশ ঋজু হয়েছেন। অনেক বিষয় শেখার সুযোগ পাবেন,
যা নিজস্থানে চালু করতে চাইবেন। নিজের নতুন দক্ষতা ও জ্ঞান যাচাই করতে চাইবেন
# আপনার ভ্রমণের গল্প সন্তানদের শোনাতে পারবেন। নাতি-নাতনিদেরও শুনিয়ে সুখবোধ করবেন। হয়তো কোনো ভ্রমণের সময়ে এমন কোনো আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছে যা আপনার মনে থাকবে আজীবন। হয়ত কোনো সুখকর অভিজ্ঞতা চাইলেও ভুলে থাকতে পারবেন না। বৃদ্ধ বয়সে অতীতের এসব স্মৃতি রোমন্থন করে মধুর সময় কাটাতে পারবেন সন্তানসন্ততির সঙ্গে।

রতন কুমার দাস

সর্বশেষ..