প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ভয় নেই পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবসায়ন হতে যাওয়া বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডের আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির সংগৃহীত আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি রয়েছে, যে কারণে অবসায়ন করা হলেও এর আমানতকারীদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক আমানতকারীকে তার প্রাপ্ত অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকই নেবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এ আশ্বাস দেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করার কারণ ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দেন মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১৫ সালের দিকে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের ওপর একটি বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ জালিয়াতির প্রমাণ পায়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনও আনে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক পর্যবেক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং আরও অবনতির দিকে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানতে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়ে আদালতের মাধ্যমে পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করার পথে এগোয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে যাতে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও এই প্রতিষ্ঠানটির আমানতের তুলনায় সম্পদ বেশি রয়েছে। অতএব আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিপলস লিজিংয়ে বর্তমানে আমানতকারীদের দুই হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা রয়েছে। অন্যদিকে সম্পদ রয়েছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির অবনতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবীদের বাইরে কোম্পানি আইনে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। ওই আইনজীবী এই মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিতেও সম্মতি জানিয়েছেন।’
পিপলস লিজিং ছাড়া এ মুহূর্তে দেশের অন্য কোনো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) অবসায়নের আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করে মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমরা দেশের সব এনবিএফআই’র আমানতকারী ও শেয়ারগ্রহীতাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করব যে, তাদের উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের অনসাইট ও অফসাইট সুপারভিশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা সর্বদা জাগ্রত। একটি প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের খবরে অন্য প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা বিচলিত হবেন না।’
পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালানোর পরও তেমন কোনো ফল না আসায় অবসায়নের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আদালতের মাধ্যমে পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করার পর যত দ্রুত সময়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে বলেও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..