মজুরি নির্ধারণ পোশাক খাতকে স্থিতিশীল করুক

রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ড বহির্বিশ্বে আমাদের সুনাম শুধু নষ্ট করেনি, ব্যবসায়িক ক্ষতিরও কারণ হয়েছে। ক্রয়াদেশ প্রত্যাহার কিংবা বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে ক্রেতাদের অনেকে। দুর্ঘটনাগুলোর কারণে আমাদের পোশাক খাতে ‘নাক গলানো’র সুযোগও পেয়েছে ক্রেতারা। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স জোট করে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানা ভবন সংস্কার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে কাজ করেছে দীর্ঘদিন। তবে বলা যায় এসব ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন পোশাক মালিকরা। পরিবেশবান্ধব ও কর্মপরিবেশ বিবেচনায় আমাদের পোশাক কারখানা বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে এখন। ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছে খাতটি। ঈদুল আজহার ছুটির কারণে গত মাসের শেষ ১০দিন পণ্য রফতানি হয়নি। তারপরও এ মাসে ২৯২ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৪ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার পোশাক রফতানি হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতের রফতানি দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এতে আশা করা যায়, চলতি অর্থবছরে সহজেই রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে খাতটি।
পোশাক খাতের অর্জনকে অবশ্য কিছুটা ম্লান করেছে মজুরি নিয়ে এ খাতের মালিক-শ্রমিকদের মতপার্থক্য। মজুরি নিয়ে অনড় অবস্থানের কারণে সমালোচিত হয়েছে মালিকপক্ষ। মজুরির সঙ্গে নিয়মিতভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করতে চান জানিয়ে মালিকরা বলে আসছেনÑবাস্তবতা বিবেচনা না করে পোশাকশ্রমিকরা বেশি দাবি করছেন। ন্যূনতম মজুরি যতটুকু বাড়বে, সরকারের কাছে সেটুকু সুবিধাও চেয়েছেন তারা। সেজন্য নতুন করে কর হ্রাস বা নগদ সহায়তা চেয়েছেন। সরকার অবশ্য এরই মধ্যে এ খাতে উৎসে ও করপোরেট কর কমিয়েছে।
পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের দূরত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, এও বলা যায়। বর্তমান বেতন থেকে ৫১ শতাংশ বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কার্যকর হবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে চারটি বৈঠকে উভয়পক্ষ একমত হতে পারেনি। অবশেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। তিনি ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেন।
ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিরোধের অবসানে আমরাও আনন্দিত। দেশের পোশাক খাতে এর প্রভাব পড়বে বলেই প্রত্যাশা। মালিকপক্ষ যথাসময়ে ন্যায্য বেতন, ভাতা প্রভৃতি পরিশোধের পাশাপাশি কর্মপরিবেশ, বিশুদ্ধ পানিসহ শ্রম আইনে বর্ণিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে বলেও প্রত্যাশা। শ্রমিকরাও দায়িত্ব পালনে যতœবান থাকবেন আশা করি। শ্রম আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর অন্তর মজুরিকাঠামো পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
রফতানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ৮৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এটি এগিয়ে নিতে হবে দেশের স্বার্থেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।