মধুপুরে রেড়েছে রাবার উৎপাদন

 

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলতি বছর ভালো উৎপাদন হয়েছে রাবারের। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিচর্যার কারণে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীনে মধুপুর উপজেলার পীরগাছায় ১৯৮৬ সালে প্রায় তিন হাজার একর জমিতে রাবার বাগান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ১০ হাজার ২৩ বিঘা জমিতে রাবার বাগান রয়েছে। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই বাগানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০০ টন বেশি উৎপাদন হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার টন, উৎপাদন হয়েছিল ৭৪৭ টন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৫০ টন, উৎপাদন হয়েছিল ৬৭০ টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫২ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছিল ৫৬০ টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮০ টন, উৎপাদন হয়েছিল ৬০০ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১৫ টন, উৎপাদন হয়েছিল ৭৬৫ টন এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ টন, উৎপাদন হয়েছে ৮৮৬ মেট্রিক টন।

একসময় মধুপুুর এলাকায় ছিল গজারির বন। ধীরে ধীরে বন উজাড় হয়ে যায়। ভূমিদস্যুরা এসব জমির বেশিরভাগ দখল করে নেয়। দুই কিলোমিটার প্রস্থ ও প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পীরগাছা রাবার বাগানে উৎপাদনশীল গাছের সংখ্যা ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৮২টি। অনুৎপাদনশীল গাছের সংখ্যা ২২ হাজার ৩৫৫টি। এ বাগানে প্রায় ৫৮৭ পিচমিল টেপার নিয়মিত কাজ করেন। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন ৭৫ জন। একজন পিচমিল টেপার প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ কেজি রাবারের কষ কারখানায় জমা দেন।

ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কে পিক এবং সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে অফ পিক সময় ধরা হয়। পিক সময়ে একজন শ্রমিক প্রতি কেজি রাবার কষ সংগ্রহ বাবদ পান তিন টাকা এবং অফ পিক সময়ে পান ছয় টাকা। খুব ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের আয় ৭০-৮০ টাকা।

এদিকে প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে রাবার। অভিযোগ উঠেছে, এ রাবার চুরির সঙ্গে জড়িত বাগানের ছোট-বড় অনেকেই। রাবার প্রক্রিয়াজাত কারখানার সাবেক কর্মচারী আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি দেখেছেন রাতের আঁধারে ছোট ছোট ট্রাকে এখান থেকে রাবার চুরি হয়। আর এ চুরির সঙ্গে জড়িত বাগান কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। প্রতিবাদ করলে পরের দিন তার চাকরি চলে যায়।

কয়েকজন রাবার বাগান শ্রমিক জানান, এ বাগানে প্রকাশ্যে চলছে হরিলুট। শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের পর অনেকের চাকরি চলে গেছে। কারণ একটাইÑশ্রমিকের স্বার্থ ও বাগানের অনিয়ম নিয়ে কথা বলাটাই অপরাধ। প্রতি বছর শ্রমিকের জন্য উৎসব ভাতা আসে। সে টাকা কর্মকর্তারা লুটে খান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পীরগাছা রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মিয়া তোফায়েল আহমেদ জানান, বাগান ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় কিছু শ্রমিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশাল বাগানের কোনো সীমানা প্রাচীর নেই, নেই পর্যাপ্ত লোকবল। ফলে রাতের বেলা বাগানের পুরো অংশ পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই কোনো কোনো এলাকা থেকে রাবার চুরি হলেও তা প্রতিহত করা সম্ভব হয় না। কারখানা থেকে কোনো রাবার চুরি হয় না।