মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকানো এড়াতে পদক্ষেপ প্রয়োজন

আইসিসিবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করে (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, যাতে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ আটকে না যায় সেজন্য সঠিক নীতিমালা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেননা অনেক দেশই আছে যেগুলো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়ে আটকে আছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিসি বাংলাদেশের ২৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় আইসিসিবি সভাপতি বলেন, বাংলাদেশকে এখন মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশ এখন পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা হারাবে, তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়Ñউত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা। অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা হারানোর কারণে বড় রফতানি বাজারে, স্থিতিশীল জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং অন্য সামাজিক-অর্থনৈতিক নির্দেশকগুলোতে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ৪০টিরও বেশি দেশের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, দেশ স্বল্প আয়ের দেশের সীমানা অতিক্রম করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে প্রতি বছর দুই দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হারাবে। আইসিসিবির কাউন্সিল প্রতিবেদনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আইসিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশে আট শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার, সাধ্যের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, কার্যকর অবকাঠামো (স্থলবন্দর ও উন্নত রাস্তা), রফতানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর জন্য আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন ।
আইসিসিবি সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মানুষসৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলা করছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি বলেন, ব্যাপক রোহিঙ্গা শরনার্থীর আগমন বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরির কারণে ইতোমধ্যে ছয় হাজার একর বন নষ্ট হয়ে বৃক্ষহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রথম সারির থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের হিসাব অনুযায়ী ছয় হাজার একর বন বৃক্ষহীন হওয়ায় ৭৪১ দশমিক ৩১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সভায় আইসিসিবির কাউন্সিলে নির্বাহী বোর্ডের প্রতিবেদন ও অডিট রিপোর্ট ২০১৭ গৃহীত হয় এবং এপ্রিল ২০১৮-মার্চ ২০২০ সময়কালের জন্য নতুন নির্বাহী বোর্ডের নাম ঘোষণা করা হয়।
অন্যান্যের মধ্যে আইসিসি বাংলাদেশের সহসভাপতি লতিফুর রহমান, রোকেয়া আফজাল রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান, এফআইসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড এইচএসবিসি সিইও ফ্রানকয়েস ডি মেরিকোর্ট ও ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, আইসিসিবির নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে এএসএম কাশেম, আফতাব উল ইসলাম, ফজলুল হক, আর মাকসুদ খান, তপন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এ রুমী আলী, আইসিসিবি সেক্রেটারি জেনারেল আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।