মনস্তাত্ত্বিক কারণে পতন চলছে পুঁজিবাজারে

কাজে আসছে না কোনো সূত্র

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: কিছুতেই থামছে না দরপতন, বরং ক্রমেই পুঁজিবাজার পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। মুদ্রানীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয়, কৌশলগত বিনিয়োগকারীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন আগে বাজারে পতন শুরু হয়। বর্তমানে এসব সমস্যার সমাধান হলেও থামছে না পতন। যদিও এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট কেউই। তাদের মতে সাম্প্রতিক পতনের জন্য দায়ী বিনিয়োগকারীরা। তাদের মনস্তাত্ত্বিক কারণে চলমান পতন অব্যাহত রয়েছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চীনকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে তারা ডিএসইর অংশীদার হয়েছে। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী চেয়েছিলেন চীনই কৌশলগত বিনিয়োগকারী হোক। কিন্তু তারা কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার পরও বাজারের দৃশ্যপট পরিবর্তিত হচ্ছে না।
এদিকে এই পতনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কেউই। এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এখন যেভাবে পতন চলছে, এর যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। মূলত বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক কারণেই পতন চলছে।’ এ অবস্থায় কী করা উচিতÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের উচিত শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখা। তাদের আবেগি না হয়ে বাস্তববাদী হওয়া উচিত।’
চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার পর গতকাল অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই ভেবেছিলেন পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। দিনের প্রথম ভাগে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও দিন শেষে প্রধান সূচকের পতন হয় আট পয়েন্টে। এ নিয়ে টানা দশ কার্যদিবস সূচক নিম্নমুখী থাকল। এই সময়ের মধ্যে সূচক কমেছে ২৬৪ পয়েন্ট। ১০ কার্যদিবস আগে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৮১২ পয়েন্ট। গতকাল যা স্থির হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৪৮ পয়েন্টে।
জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘এই পতন আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। বাজারে এখন অধিকাংশ শেয়ারই বিনিয়োগযোগ্য। এই অবস্থায় বাজার নি¤œমুখী হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটা মনোগত কারণ। ভয় পেয়ে যখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেন, সে প্রভাব অন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বাজারে দ্রুত পতন নেমে আসে।’ বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কিছু রয়েছে কি নাÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন যে অবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে বাজার পড়বে বলে মনে করি না।’
তবে বিষয়টিতে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের মতে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় নেই। তারা ইচ্ছা করেই বাজারে দরপতন ঘটাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাজার একটি চক্রের হাতে জিšি§ রয়েছে। তারাই কৃত্রিমভাবে বাজারের দৃশ্যপট পরিবর্তন করছে, যার প্রভাবে প্রতারিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা হচ্ছি ঘরপোড়া গরুর মতো, যারা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। তাদের অভিমত, ২০১০ সালেও বাজারে একইভাবে পতন নেমে আসে। তখনও বাজার-সংশ্লিষ্টরা অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। একসময় সত্যি সত্যিই বাজারে মহাপতন নেমে আসে।
এ প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘এ কথা ঠিক, ২০১০ সালের সঙ্গে এখনকার বাজারের মিল নেই। কারণ শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়নি। তবে বাজারচিত্র কিন্তু একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’