প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

মনিটরিং না থাকায় প্রতারণা বাড়ছে অনলাইন শপিংয়ে

হামিদুর রহমান: কর্মব্যস্ত নগরজীবনে যানজটের ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন শপিং মার্কেটপ্লেসগুলোয়। তবে পণ্য হাতে পাওয়ার পর এ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই ক্রেতাদের। ইদানীং প্রায়ই ক্রেতাদের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটপ্লেসের ভিন্নতায় পণ্যের দামের ভিন্নতা নিয়ে। অনেক ক্রেতা অভিযোগ করছেন ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ছবির সঙ্গে পণ্যের মিল নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ তদারকি না থাকায় এমন প্রতারণার সুযোগ নিচ্ছে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্রেতা এ তথ্য না জানায় এ ধরনের কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
অনলাইন শপিংয়ের নিয়মিত কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে রকম পণ্যের ছবি দেখে তারা অর্ডার করেছেন, সে রকম পণ্য পাঠানো হচ্ছে না। ক্ষেত্রভেদে খুবই নিন্মমানের পণ্য আসছে। এ ধরনের অভিযোগ বেশি আসছে মোবাইল হ্যান্ডসেট, হাতঘড়ি, ব্লেজার, শাড়ি প্রভৃতি পণ্য নিয়ে।
গত এক বছর ধরে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটা করছেন রাজধানীর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী শাওন আহম্মেদ। সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে নেভি ফোর্সের একটি ঘড়ি কেনেন আড়াই হাজার টাকায়। এর একদিন পর তারই এক বন্ধু অন্য একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে একই ব্র্যান্ডের একই ডিজাইনের ঘড়ি কেনেন দেড় হাজার টাকায়। অর্থাৎ একই ব্র্যান্ডের ঘড়ি ক্রয় করতে এক হাজার টাকা বেশি ব্যয় করতে হয়েছে শাওনকে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ইউটিউবার শওকত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে একটি অনলাইন শপিং সাইট থেকে ব্ল্যাক কালারের ফুড সিøভ জেন্টর্স ক্যাজুয়াল জ্যাকেট কিনেছিলাম এক হাজার ৪৮০ টাকায়। পরে দেখি একই ব্র্যান্ডের একই রংয়ের জ্যাকেট আজকেরডিলডটকমে ৪৯৯ টাকা। পরে সেখান থেকে আরও একটি জ্যাকেট কিনি। মার্কেটপ্লেসের ভিন্নতায় এত বড় একটা প্রতারণা শিকার হবো বুঝতেই পারিনি।’
এই ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনলাইন মার্কেটের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনও সরাসরি বিপণিবিতান থেকে পণ্য কেনাই ভালো মনে হচ্ছে। এতে দর যাচাই করে পণ্য কেনা যায়। পণ্য দেখে ক্রয় করা যায়।’
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি অভিযোগ বাড়ছে। একই ব্র্যান্ডের পণ্য একেক সাইটে একেক রকম দাম। এতে একেক গ্রাহকের একেক রকম অভিজ্ঞতা হচ্ছে। নতুন করে যেসব উদ্যোক্তা ই-কমার্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বা নতুন করে আসছে তাদের অনেকেরই অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে দক্ষ ধারণা নেই। কিছু অদক্ষ ব্যবসায়ীদের জন্য দক্ষ ব্যবসায়ীদেরও মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন থাকলেও তাদের কাজের গতি সন্তোষজনক নয়।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির অগ্রগতিতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এত অভিযোগের পরও অনলাইনে পণ্য বিক্রি বাড়ছে। ২০১৯ সালে দেশে অনলাইন মার্কেটের মোট লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত বছরে এর আকার ছিল এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন অর্ডার করা ২০ হাজারের বেশি পণ্য প্রসেসিং হচ্ছে। অন্যান্য দেশে ই-কমার্সের জন্য ল্যাব থাকলেও বাংলাদেশে নেই। সম্প্রতি ই-কমার্স নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ই-কমার্সের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি রাজীব আহম্মেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘একেক অনলাইনে একেক রকম মূল্য থাকবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। রাজধানীর একেক মার্কেটে একেক রকম মূল্য। ফলে অনলাইন শপে এটি হতে পারে। গ্রাহক কোন পণ্য কোন সাইট থেকে কিনবে এটি তাদের পছন্দ।’
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ই-কমার্স বাজারের আকার বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার ক্রেতা অনলাইনে পণ্যের অর্ডার দেন। ১৩ থেকে ১৫ লাখ মানুষ বছরে একবার হলেও অনলাইনে অর্ডার করেন। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কারণ ভারতে অনলাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১০ কোটি, চীনে প্রায় ৪০ কোটি। ভারতে জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত, সেখানে বাংলাদেশে এখনও জনসংখ্যার এক শতাংশের কম অনলাইন শপিং করে।

সর্বশেষ..