মন্দাবাজারে আগ্রহের শীর্ষে জ্বালানি খাতের তিন কোম্পানি

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল দর সংশোধন হয়েছে। বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতন ও সব কয়টি সূচকের পতন হয়। তবে লেনদেন অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল বৃহৎ-ক্ষুদ্র প্রায় সব খাতেই দরপতনের আধিক্য ছিল। ব্যতিক্রম ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। এ খাতে বেশিরভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল এ খাতের তিন কোম্পানিতে। এ তিনটি কোম্পানি হচ্ছে খুলনা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার ও ইউনাইটেড পাওয়ার। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল খুলনা পাওয়ার। গতকাল কোম্পানিটির ১২৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানিটি গত প্রায় দুই মাস ধরেই লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে। মাঝে কয়েকদিন অবশ্য সংশোধন হয়েছে। এরপর গত কয়েকদিন ধরে বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা পাওয়ার। ডিএসইর তথ্যানুসারে, কোম্পানিটি দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে অবস্থান করছে। এ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে বিদেশিদের আগ্রহের কারণে খাতটি ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে উঠে আসছে। গতকাল মোট লেনদেনের ৩৬ শতাংশ বা ২৮৬ কোটি টাকা লেনদেন হয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। আর এ খাতে মোট লেনদেনে ৪৩ শতাংশই ছিল খুলনা পাওয়ারের। এছাড়া সামিট পাওয়ার সাড়ে ৩২ শতাংশ ও ইউনাইটেড পাওয়ারের ১৪ শতাংশ। এরমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে সামিট পাওয়ার দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। এ খাতে ৫৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। বস্ত্র খাতে ১৪ শতাংশ লেনদেন হলেও এ খাতে মাত্র ২৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের হা-ওয়েল টেক্সটাইল, ভিএফএস থ্রেড দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। ড্রাগন সোয়েটারের সাড়ে ১৭ কোটি এবং স্টাইল ক্রাফটের সাড়ে ১৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ডিভিডেন্ড ঘোষণার পরদিন গতকাল স্টাইল ক্রাফটের দর সমন্বয় হয়ে আট দশমিক ৫০ শতাংশ দর কমেছে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ২২ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। ইফাদ অটোসের ১৮ কোটি ও বিবিএস কেব্লের ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৩০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের লেনদেন গতকাল উভয় বাজারে শুরু হয়। প্রথমদিনেই ১০ টাকা ফেসভ্যালুর শেয়ারটির দর ১৯০ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ লেনদেন হয় ২৯ টাকায়। এছাড়া অ্যাকটিভ ফাইনের সাড়ে ২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সবগুলো খাতেই দর সংশোধন হয়েছে। এর মধ্যে বিবিধ খাতে ১৩ কোম্পানির মধ্যে সব কয়টির দরপতন হয়। এছাড়া পাট, কাগজ ও প্রকাশনা, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।