মন্দার আগের অবস্থানে ফিরছে বিশ্ব অর্থনীতি

বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০১৭ সালে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধি বেড়ে তিন দশমিক এক শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ব্যাংকটি বলছে, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার আগের অবস্থানে ফিরে আসছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধি সমৃদ্ধ করতে দেশগুলোকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এএফপি, বিবিসি।

গত বছরের জুনে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, তার প্রায় সবই বাড়িয়েছে। ২০১৭ সালে তিন শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। জুনে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি বছর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে তিন দশমিক এক শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি হবে দুই দশমিক তিন শতাংশ ও দুই দশমিক দুই শতাংশ হারে। এছাড়া ২০১৯ সালে তিন শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তবে ২০১৯ ও ২০২০ সালের প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল শ্লথ হবে। ওই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক ৯ শতাংশ ও ২০২০ সালে এক দশমিক সাত শতাংশ হবে।

ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে দুই দশমিক চার শতাংশ হবে বলে নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি দশমিক সাত পয়েন্ট বেশি। ২০১৮ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে দুই দশমিক এক শতাংশ। এটিই আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ছয় শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালে দুই দশমিক তিন শতাংশ এবং ২০১৮ সালে দুই দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি সামান্য বেশি। এছাড়া জাপানের ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলা হয়েছে এক দশমিক সাত শতাংশ এবং ২০১৮ সালে এক দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

তবে চীনের প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশটিতে ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক আট শতাংশ, যদিও আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ৩০ শতাংশ বেশি। তবে গত কয়েক বছরের গড় হিসাব করলে এ প্রবৃদ্ধি কম।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, আগের পূর্বাভাসের তুলনায় সব পূর্বাভাসই বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে। প্রধান তিনটি উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরো জোন ও জাপানে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। উদীয়মান দেশগুলোও ভালো করছে। এছাড়া ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো পণ্য রফতানিকারক বৃহত্তম দেশ ২০১৬ সালেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংগ্রাম করেছে। এসব দেশেও গত বছর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

কোস এক সাক্ষাৎকারে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের নি¤œ হার ধরে রেখেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ও ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে।

তবে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকিও রয়েছে। কোস সতর্ক করে বলেন, ‘ইতিহাসের নিজেরই পুনরাবৃত্তি হবে।’

এই প্রবৃদ্ধি একটি একটি পর্যায়ে শেষ হবে। ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হলোÑউচ্চ ঋণ। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে জানান কোস। আরেকটি ঝুঁকি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সীমাবদ্ধ করাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদ নীতিকে সরাসরি উল্লেখ না করে এ ধরনের নীতিকে অন্যতম ঝুঁকি বলেছেন তিনি।

প্রবৃদ্ধির শ্লথহার রোধে জনসাধারণের ভূমিকাকে উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, উচ্চমানের বিনিয়োগ এবং শ্রম ও ব্যবসায় সংস্কারে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনে।