মন্দায় আক্রান্ত ব্ল–চিপস কোম্পানি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে চলছে দীর্ঘ মন্দা। আর এ মন্দায় আক্রান্ত মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো। ব্ল–চিপস বিবেচিত জনপ্রিয় শেয়ারের দরও কমছে নিয়মিত। গ্রামীণফোন, আইডিএলসি, এসিআই লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো ফার্মা, লংকাবাংলাসহ বেশিরভাগ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরাও এ মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত। গত ছয় মাসে পুঁজিবাজারের আলোচিত এসব কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ১৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে এসব শেয়ার নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ছয় মাসের ব্যবধানে পতনের বাজারে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের প্রতি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের লোকসান গুনতে হয়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। ছয় মাস আগে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয় ৪৬ টাকা ৭০ পয়সায়। এর পরই উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে শেয়ারদর। কোনো কারণ ছাড়াই টানা কমতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর, যে ধারা এখনও চলমান। গতকাল দিনশেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ২৭ টাকা ৯০ পয়সায়।
এদিকে এসিআই লিমিডেটের প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ২৬ শতাংশ বা ১১৯ টাকা। ছয় মাস আগে এই শেয়ারের দর ছিল ৪৫৮ টাকা ৫০ পয়সা। গতকাল তা লেনদেন হয় ৩৩৯ টাকা ৬০ পয়সায়। একইভাবে এই সময়ের মধ্যে ২২ শতাংশ দর হারিয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের। ছয় মাস আগে এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ৮১ টাকা ৪০ পয়সায়। এর পরই কোম্পানিটির গায়ে পতনের ধাক্কা লাগে। তালিকাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে এর দর কমতে থাকে। গতকাল দিনশেষে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয় ৬৩ টাকা ৪০ পয়সায়।
অন্যদিকে ছয় মাসের ব্যবধানে ২০ শতাংশ দর কমেছে পুঁজিবাজারের আলোচিত কোম্পানি গ্রামীণফোনের। চলতি বছরের শুরুতেই এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কমতি দেখা যায়, যার জের ধরে কমতে থাকে শেয়ারদর। বছরের শুরুতে এই শেয়ারের দর ছিল ৪৭৬ টাকা। গতকাল দিন শেষে এ শেয়ার লেনদেন হয় ৩৮০ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ এই দরে যারা কেনা-বেচা করেছেন তাদের প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯৭ টাকা বা ২০ শতাংশ।
একইভাবে ছয় মাসের ব্যবধানে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতি শেয়ারের দর কমে ১৩ শতাংশ। পতন শুরুর আগে এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় তিন হাজার ৭৭১ টাকায়, পতনের জের ধরে গতকাল যে শেয়ার লেনদেন হয় তিন হাজার ২৯৬ টাকা ৪০ পয়সায়।
জানতে চাইলে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের কোম্পানি সচিব মোস্তফা কামাল শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের কোম্পানির শেয়ারদর কেন কমছে তা বলতে পারব না। দীর্ঘদিন থেকে দেখা যাচ্ছে, বাজারের স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে এসব কোম্পানি নিয়ে গেম হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা হয়তো এ ধরনের কোম্পানিতে ঝুঁকে পড়ছেন, যার জের ধরে কমে যাচ্ছে ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, এসব কোম্পানির শেয়ারদর পতনের প্রধান কারণ সার্বিক বাজারের পতন। বাজারে যখন সব কোম্পানির শেয়ারদর কমে তখন ভালো ভালো কোম্পানিতে এর প্রভাব পড়ে। এসব কোম্পানির ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তবে এতে ভয়ের কিছু আছে বলে মনে করি না, কারণ ভালো কোম্পানিতে সব সময় ঝুঁকি কম। কোম্পানিগুলো হয়তো যথাসময়ে ঘুরে দাঁড়াবে।