মন্দা বাজারে চাঙা দুর্বল কোম্পানিগুলো

রুবাইয়াত রিক্তা: চলতি সপ্তাহে টানা চতুর্থ দিন মন্দাবস্থায় কাটল পুঁজিবাজারের। একদিন একটু ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেই পরদিন আরও নিচে নেমে যায় বাজার। লেনদেনও প্রতিনিয়ত কমছে। তবে মন্দা বাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো সুবিধা করতে না পারলেও কিছু দুর্বল কোম্পানির অবস্থা চাঙা। কোনো কারণ বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে এসব কোম্পানির দর ও লেনদেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও নিরুপায় হয়ে ছুটছে এসব কোম্পানির পেছনে। কারণ ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনে দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

গতকাল মন্দা বাজারে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল প্রকৌশল, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন এবং বিমা খাত। গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ২১ শতাংশ বা প্রায় ৯১ কোটি টাকা। লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এ খাতের ৪২ শতাংশ শেয়ারের দর ইতিবাচক ছিল। বিডি অটোকার দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে।

এছাড়া আজিজ পাইপস ও বিডি থাই দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। সম্প্রতি আজিজ পাইপস ‘জেড’ থেকে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ বা ৮০ কোটি টাকা। এ খাতের হামিদ ফেব্রিকস দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এ খাতের ৫০ শতাংশ শেয়ারের দর ইতিবাচক ছিল। গতকাল লেনদেনে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। এ খাতের লেনদেন নেমে আসে ৬৭ কোটি টাকায়, যা মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ। লেনদেন কমেছে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। এ খাতের মাত্র ১৩ শতাংশ শেয়ারের দর ইতিবাচক ছিল। ব্যাংক খাতের পতনের কারণে স্কয়ার ফার্মা, বিএটিবিসি, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ারের দরবৃদ্ধি সূচক ইতিবাচক করতে ব্যর্থ হয়।

গতকাল বাজারে নেতৃত্ব দেয় ইফাদ অটোস। কোম্পানিটির ৩১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানিটি টিভিএস ব্র্যান্ডের সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেশে বাজারজাত করতে যাচ্ছেÑএমন একটি খবর গতকাল এর দরে প্রভাব ফেলে। এছাড়া আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং সাড়ে ২১ কোটি, প্যারামাউন্ট টেক্স ১৩ কোটি, ন্যাশনাল টিউবস সাড়ে ১২ কোটি, লাফার্জ সুরমা ১২ কোটি এবং বিডি থাইয়ের সাড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থানকারী দশ কোম্পানির মধ্যে আটটি ছিল ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে জুট স্পিনার্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, ইমাম বাটন, সিনোবাংলা, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, শ্যামপুর সুগার, বঙ্গজ, ঢাকা ডায়িং। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটেগরির বিডি অটোকার। এসব কোম্পানির দর ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।