ধারাবাহিক

মন্দ উদ্দেশ্য ও চড়া দাম

মিজানুর রহমান শেলী: ১৯৮৭ সালে আমরা একটি কর ছাড়পত্র পাব বলে নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম। এমনকি পরবর্তী বছরগুলোয় আমরা এর একটি অংশ উপভোগ করতে পারব বলেও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এ সম্ভাবনা আমাদের ভাগ্য জোটেনি। আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিমা যা আগে থেকে তখনও পরিশোধ করিনি, সেগুলো ইতোমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল ১৯৮৬ সাল ও তার আগের বছরগুলোর খরচের হিসাবের ধারা অনুসারে।
কিন্তু এ পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বড় প্রভাবটি কোথায় পড়েছিল? এর জবাবে বলতে হয়, এ পরিবর্তনের ফলে যাবতীয় নিট সম্পদের একটি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ পরিবর্তনের কোনো প্রতিফলন আমাদের ব্যবসার আর্থিক খতিয়ানে দেখাতে সক্ষম হইনি। বরং আমরা এখন পর্যন্ত আগের সেই জিএএপি আইনই মেনে চলেছি। অথচ এ আইন আমাদের জন্য কোনোভাবে সুখকর কোনো বিষয় হিসেবে ধরা দিচ্ছে না। বার্কশায়ারসহ অনেক বিনিয়োগী মহল থেকেই এই জিএএপি ব্যবস্থাকে আমরা সন্দেহ করা শুরু করেছি। এ ব্যবস্থাটি আমাদের কোনোভাবে কোনো সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে না। বরং তা আমাদের নানাভাবে প্রতারিত করে থাকে। এ বিষয়ে আমি এই বই ও আমার বিভিন্ন চিঠিতে ও লেখনীতে বিস্তর আলাপ করেছি। আমরা আশা করি, এই জিএএপি আইনের একটি বড় পরিবর্তন আসা উচিত। এ পরিবর্তনটি নিয়ে আমরা এর আগেও বেশ বড় এক আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি কেন এই জিএএপিকে পছন্দ করি না। এমনকি এ আইনের বাইরে গিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বেশ শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছি। তাই অন্তত এ ব্যবস্থাটির আবারও পরিবর্তন আসা উচিত। এর ফলে বড় সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে। এটা নিশ্চিত, এখানে একটি প্রবাহ সৃষ্টি হবে। এ প্রবাহ আমাদের আয়ের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলবে। আর তা অবশ্যই আমাদের বার্ষিক বিবরণীতে উল্লেখ থাকবে। এমনকি এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরগুলোতে এই নিট সম্পদের ওপর আমাদের করের বোঝা অনেকটা হালকা হয়ে আসবে। তবে আমাদের সামগ্রিক লাভের ফসল এখানেই শেষ নয়। এখানে আমাদের আরও একটু বিষয় বাড়ন্ত রয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের ‘ফ্রেশ-স্টার্ট’ও সংযুক্ত হবে। আর সব মিলে আমাদের লাভ দাঁড়াবে ৩০-৪০ মিলিয়ন ডলার।
এখানে উল্লেখ করতে চাই, এই মুনাফাটি কিন্তু আমাদের স্থায়ী কোনো লাভের হিসাব নয়। বরং তা একবারের জন্যই আমাদের হাতে একটি মুনাফা এনে দেবে এবং শেষে স্থায়ী হয়ে যাবে। অথচ আমাদের কর পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিমার প্রভাব কখনোই ইতিবাচক হয় না, সেখানে একটি নেতিবাচক প্রভাব আমাদের ওপর চেপে বসে। অবশ্য এটা এখন কেবল চলমান কোনো ইস্যু নয়। বরং এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়টি সবাই গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন। বস্তুত এ আশঙ্কা বা নেতিবাচক বিষয়টি যতদিন গড়িয়ে যাবে, ততই আমাদের জন্য কঠিন ও ভয়ানক ইস্যু হয়ে দেখা দেবে।
জেনারেল ইউটিলিটির বিষয়টি আমি প্রথমেই উল্লেখ করেছি। জেনারেল ইউটিলিটি মতবাদটি এখানে নতুন কর আইনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, ১৯৮৭ সালের এ ঘটনার পরিণতি কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এ ঘটনার ফলে সেখানে ওই বছর ও তার পরবর্তী বছরগুলোয় করের হার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই কর বৃদ্ধির বিষয়টি গিয়ে করপোরেট অর্থের ওপর আছড়ে পড়বে। বিশেষ করে করপোরেট অর্থ যখন তরলীকরণ করা হবে। এর একটি থাকে করপোরেট স্তরে; অন্য স্তর থাকে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে।
আমাদের আলোচনার এ পর্যায়ে এসে আবারও অতীতের দিকে তাকাতে পারি। তখন করপোরেট স্তরের করকে ব্যাপকভাবে এড়িয়ে চলা হতো। বলা চলে, মওকুফ নয় বরং তাদের ওপর করারোপের বিষয়টি মাথায় আনা হতো না। আসলে এ ধরনের ব্যবসায় কোনো করারোপ করাকে যেন তারা রীতি ও প্রথাবিরুদ্ধ বলে মনে করত। এখানে আমি উদাহরণ হিসেবে বার্কশায়ারকে সামনে আনতে চাই। বার্কশায়ারের সে সময় অর্থ তারলীকরণের প্রয়োজন পড়েছিল। সম্ভবত এ কাজটি তখন শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা সম্ভব ছিল না। তারা এটা কোনোভাবেই করতে পারছিল না। কিন্তু এরপরই নতুন আইন দেশে চলে এলো। তখন তারা আমাদের সর্বমোট সম্পদের যা কিছু বিক্রি করা হলো, তার তুলনায় অনেক কম গ্রহণ করল কর হিসেবে। কিন্তু আমাদের সম্পদ যদি তখন আগে থেকেই বিক্রি হয়ে থাকত, তবে তারা আমাদের কাছ থেকে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি পরিমাণ কর আদায় করতে পারত।
এখানে মূলত আমাদের বিক্রির হিসাব-নিকাশে প্রত্যেকটি পণ্যকে আলাদ আলাদা করে বিবেচনায় আনা হয়েছে। আমরা এখানে দেখেছি তারা প্রতিটি পণ্যের আলাদা বিক্রি মূল্য হিসাব করেই আমাদের ওপর করারোপ করতে বাধ্য হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তারা আমাদের থেকে কর তুলেছে। কিন্তু আমরা এ ঘটনাকে আজ কীভাবে আমাদের করে নেব? এ প্রশ্নের সহজ জবাব হলো: এটা অবশ্যই আজ আমাদের কোনো প্রায়োগিক ইস্যু নয়। বরং তা আজ আমাদের কাছে একটি তত্ত্বীয় বিষয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এ পরিবর্তনটি খুব বাস্তবসম্মত একটি পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। আর এটা আমাদের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর ব্যাপক হারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।
আর এ একই কারণে এটা আমাদের মূল্যায়নের ওপরও এক বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করছি যে, এ মূল্যায়ন বলতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশিত বিনিয়োগের মূল্যায়নকে বোঝানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলবÑআপনারা উৎপাদনে সক্ষম তেল ও গ্যাসের ব্যবসা গ্রহণ করুন। অথবা কিছু বিশেষভাবে নির্বাচিত মিডিয়া কোম্পানিকেও আপনারা গ্রহণ করতে পারেন। আরও গ্রহণ করতে পারেন কোনো না কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে। এ রকম আরও অনেক উদাহরণই থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এসব ব্যবসাই এক সময় পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যেতে পারে। এখন কথা হলো, এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা যে মূল্যমান উপলব্ধি করে বা যা কিছু নির্ধারণ করে, তা খুব সম্ভবত বিস্তর পরিসরে কমে আসবে। আর এ ঘটনা ঘটবে খুব সাধারণভাবে তাদের জেনারেল ইউটিলিটিজ মতবাদের মাধ্যমে। কেননা, এই জেনারেল ইউটিলিটিজ মতবাদটি এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। যদিও এ কোম্পানির পরিচালনা ব্যবস্থা আদৌ বিপরীতক্রমে বা প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে পরিবর্তন হয়ে যাবে না। আমি মনে করি, এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এটা আইনের মধ্যে থেকেই একটি পরিবর্তন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এই পরিবর্তনের আদ্যোপান্ত বুঝে উঠতে সক্ষম হইনি। বলতে হবে, এটা আমাদের ব্যর্থতা। আর এই ব্যর্থতা সামনে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি না। তাই এ ব্যবস্থাকে আমাদের নিশ্চয়ই খুব ভালো করেই বুঝে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা আমাদের বিনিয়োগকারী কিংবা আমাদের ম্যানেজার, তাদের অবশ্যই এ পরিবর্তন বুঝতে হবে। এ পরিবর্তনের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন ইস্যু যদি তারা না বোঝেন, তবে তারা কোনোভাবেই এই বিনিয়োগী ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। এমনকি তারা এ ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়বেন।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ

সর্বশেষ..