মশা মারতে কামান দাগা নয় যথাযথ পদক্ষেপ চাই

শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় গরমের তীব্রতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। আর তার চেয়ে বেশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশার প্রকোপ। স্বাভাবিকভাবেই আবারও তীব্র ভোগান্তিতে নগরবাসী। গণমাধ্যমগুলোও বেশ সরব এ নিয়ে। সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করছে পত্রিকাগুলো। আর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে মশার আশ্রয়স্থলগুলোর রমরমা অবস্থা! তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মশার প্রকোপ নিয়ে এবার শুরু থেকেই বেশ সরব সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ নিয়ে কিছুটা আতঙ্কও ছড়াচ্ছে। আর এর কারণ আগের বছরের অভিজ্ঞতা। চিকুনগুনিয়ার মহামারী গত বছর মারাত্মকভাবে ভুগিয়েছে নগরবাসীকে। হাজার হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন পার করেছেন। সঙ্গে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ তো ছিলই। সব মিলিয়ে গত বছর গরমের মৌসুম মোটেও ভালো কাটেনি সাধারণ মানুষের।

এর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুরু থেকেই সিটি করপোরেশন বিষয়টি নিয়ে সচেতন থাকবে, এটাই সবারই কাম্য ছিল। তবে বাস্তবে তা কতটা ছিল বা রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণমাধ্যমে যে ধরনের খবর বের হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ যা বলছে তাতে মোটেও এ ধরনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানা যাচ্ছে না। বরং মশার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছেই।

তবে রাজধানীর মধ্যাঞ্চলের অবস্থা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও আশেপাশের অবস্থা মোটেও সন্তোষজনক নয়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রূপগঞ্জসহ রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের খাল, ডোবা, নালা ও ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় এবার মশার প্রকোপ অনেক বেশি। আর বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির দূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব অঞ্চলে মশার প্রকোপও দিন দিন আরও বাড়ছে। ফলে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এরপরও মশা নিধনে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় স্থানীয় প্রশাসন।

এরইমধ্যে ফেসবুকে একটি ছবি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ত সড়কে সিটি করপোরেশনের ব্যানার লাগিয়ে একটি গাড়িতে মশা তাড়ানোর ফগারমেশিন দিয়ে ব্যাপকভাবে ধোঁয়া ছাড়া হচ্ছে। মাঝে একজন নারীও দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তবে সেখানে তার কাজ কী তা মোটেও পরিষ্কার নয়। আর এ ধরনের রাস্তার মাঝে ধোঁয়া ছেড়ে মশা নিধন কীভাবে হবে সে প্রশ্নেরও জবাব নেই। এটা শুধু প্রচারণা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, ‘মশা মারতে কামান দাগা’। এতে মশা দূর হবে কীভাবে ?

ঢাকা শহরের সাধারণ অধিবাসী হিসেবে আমরা এ ধরনের প্রচারণা দেখতে চাই না। আমরা চাই, মশা নিধনে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদে গপ গ্রহণ করা হোক। যেসব উৎসগুলো মশার প্রকোপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অবিলম্বে পরিষ্কার করা হোক ডোবা, নালা, খালগুলো। আর নদীগুলো দূষণমুক্ত করে তার পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। এতে মশার প্রকোপ যেমন কমবে, তেমনি সাধারণ মানুষও

কিছুটা স্বস্তি পাবে। আর আগের বছর চিকুনগুনিয়া রোগ যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তা এবার যেন আর না ছড়ায় সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই সতর্ক হওয়ার

আহবান জানাচ্ছি।

 

হোসেন আলী

মালিবাগ, ঢাকা