সাক্ষাৎকার

মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবস্থা নিন

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে মসলার দাম বাড়ে প্রায় প্রতিবছর। কোরবানিতে মসলার অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা মাংস রান্নার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ প্রভৃতির দাম বাড়িয়ে থাকেন। অবশ্য অতিরিক্ত শুল্ক, বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বিলম্বে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচও বাড়ে। এসব কারণে মসলার দাম বাড়লে সেটিকে যৌক্তিকই বলা যেতে পারে।
প্রায় সব ধরনের মসলা আমদানি করতে হয় আমাদের। কোরবানির সময় চাহিদা বেড়ে যায় বলে বাজারে মসলার সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক বলতে চাই আমরা। কিন্তু আমাদের দেশে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কারণ ছাড়াও পণ্যের দাম বাড়ে। এটি হলো মুনাফালোভী একশ্রেণির ব্যবসায়ীর অসাধুতা এবং মজুতের মাধ্যমে তাদের সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া।
ঈদুল আজহার বাকি দুই মাসেরও কম। আমাদের কথিত দূরদর্শী ব্যবসায়ীয়রা যেন আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন মসলার দাম বাড়ানোর। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বাণিজ্য সচিবের প্রশ্ন: ‘৮০ টাকার আদা ১৬০ টাকা কেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যেন সেটিরই ইঙ্গিত মিলছে।
আগের দিনও এক কেজি আদা ১৬০ টাকায় কিনেছেন জানিয়ে সচিব আশঙ্কা করছেন, ‘আগামী কোরবানির ঈদ আসতে আসতে এটি আরও বেড়ে যাবে।’ আমরা আশা করি, এবার ঈদে আদাসহ কোনো মসলার দাম অযৌক্তিক কারণে বাড়বে না।
প্রতি বছর বলা হয়, রোজার সময় দ্রব্যের দাম বাড়বে না। বাড়েও না। কারণ অনেক আগেই বাড়িয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা। ওই ফরমুলায় ব্যবসায়ীরা চাইবেন মসলার দাম কোরবানির ঈদের আগেই বাড়িয়ে ফেলতে। এখন বড় করপোরেট হাউজও ব্যাপকহারে মসলার ব্যবসা করছে। সিন্ডিকেট করে এসব প্রতিষ্ঠান যেন মসলার দাম বাড়াতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। মজুতদারদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতাও রোধ করতে হবে। এজন্য বড় ব্যবসায়ীর গুদামগুলোয় নদরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, মসলা আমদানিতে বেশি শুল্ক দিতে হয়। ফলে তা চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারকরা। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হতে পারে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন বাড়ানো। মসলা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন আমাদের চাষিরা। তাদের উৎসাহিত করতে হবে। আমাদের মসলা গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। আদা চাষেও উৎসাহিত করা যায় কৃষককে। এটি পতিত জমিতেও চাষ করা সম্ভব।

সর্বশেষ..