মহাসড়কের রোড মার্কিংয়ে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

ইসমাইল আলী: সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের অধীনে সারা দেশে মহাসড়ক প্রায় আট হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ছয় হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে রোড মার্কিং ও সাইন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কিছু স্থানের করিডর উন্নয়ন করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি, যা নিয়ে আপত্তি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিরীক্ষণে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে প্রকল্পটির ব্যয় পর্যালোচনাপূর্বক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সওজের তথ্যমতে, সারা দেশে সওজের অধীনে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে তিন হাজার ৮২৭ কিলোমিটার ও আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে চার হাজার ২৪৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ফলে বাকি ছয় হাজার কিলোমিটার সড়কে রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কিছু সড়কের করিডর উন্নয়ন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বৈঠকে প্রকল্পের আওতাধীন জনবল ও প্রযুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় সারা দেশে ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানের সড়ক করিডর উন্নয়নে নির্মাণকাজ পরিচালনা ও আট বছর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১৮৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। অথচ সারা দেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোট ছয় হাজার কিলোমিটার স্থানে প্রয়োজনীয় সাইন ও রোড মার্কিন স্থাপনে এবং ঝুঁকিপূর্ণ করিডর উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

যদিও সড়ক-মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন মোড় চিহ্নিতকরণ ও তা উন্নয়নে নকশা প্রণয়নে পৃথক আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান-অপ্রধান জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে বিপজ্জনক মোড়গুলো চিহ্নিত করা, এগুলোয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উপায় নির্ধারণ, নকশা প্রণয়ন ও সওজের রোড সেফটি ইউনিটের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে আবার বৈদেশিক প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৩২ শতাংশ।

এদিকে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও বলা হয়, রোড সাইন ও মার্কিং সড়কের নির্মাণকাজের অন্তর্ভুক্ত একটি রুটিন ওয়ার্ক। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্কলিত ব্যয় যৌক্তিক কিনা, তা যাচাই করা দরকার। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, প্রস্তাবিত ব্যয় প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা নির্ধারণ ও একটি যুক্তিযুক্ত ব্যয় প্রস্তাবনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি প্রকল্প ব্যয়ের যৌক্তিকতা নির্ধারণপূর্বক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, সড়ক-মহাসড়কে রোডসাইন ও মার্কিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে এটি সাধারণত নতুন সড়ক নির্মাণ বা বিদ্যমান সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছেÑএ ধরনের মহাসড়ক রয়েছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। তাই প্রকল্পটির আওতায় অবশিষ্ট ছয় হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে রোড সাইন ও মার্কিংয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্পট উন্নয়নও এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির ব্যয় পর্যালোচনায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেনÑবাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (অপারেশন) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস, সওজের রোড সেফটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন সরকার, বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী প্রধান (পরিকল্পনা) দীপজন মিত্র।