মহিপালে ওভারপাস, যানজট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

‘মহাসড়কে যানজটের প্রতিবাদে আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম বাস ধর্মঘট’ শিরোনামে যে খবর ছাপা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এর বিস্তারিত উল্লেখ বোধকরি এখানে নিষ্প্রয়োজন। গণমাধ্যমের কল্যাণে তা ইতোমধ্যে পাঠকদের জানা থাকার কথা। ফেনীর মহিপাল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রেল ওভারপাস নির্মাণের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সম্প্রতি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, যানজট আর ফেনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনিÑমহিপাল ছাড়িয়ে সেটি চলে যায় কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত। এ অবস্থায় বিশেষত ফেনী-দাউদকান্দিতে চলমান যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে ওই সড়কপথে ধর্মঘট ডাকে বাস মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।
ধর্মঘট দেশে নতুন নয়। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটেও অভিনব কিছু নেই। তবে ধর্মঘট আহ্বানের কারণ যখন হয় যানজট নিরসন ও যাত্রী ভোগান্তি হ্রাস, তখন কিছুটা হলেও অবাক হতে হয়। এর কিছু কারণ অনুমান করতে পারি আমরা। প্রথমত, সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিয়ে কেবল যাত্রীর অভিযোগ রয়েছে, তা নয়; বাসমালিক ও শ্রমিকরাও এর বিপক্ষে। কেননা যানজট মানেই যান্ত্রিক বাহনের কর্মদক্ষতা হ্রাস এবং অর্থ ও শ্রমের অপচয়। মালিকদের চিন্তা যেখানে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো; সেখানে যানজটে পরিবহন শ্রমিক তথা চালক, হেলপার ও কন্ডাকটরদের দুর্ভাবনাÑআরেকটা ট্রিপের সুযোগ নষ্ট! দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটটি যেকোনো ধরনের পরিবহন পদ্ধতির বেলায় অন্যান্য রুট থেকে স্বতন্ত্র ও গুরুত্ববহ। কী পণ্য, কী যাত্রীÑযেকোনো পরিবহনে সড়ক, নৌ, রেল কিংবা আকাশপথে এ রুটে চলাচল বেশি। এর যাত্রীরা অধিক সচেতন বিধায় দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাস সার্ভিস অন্যান্য রুটের সার্ভিসের তুলনায় উন্নত। আর এ থেকে ধারণা করতে কষ্ট হয় না, যানজটে হয়রান যাত্রীরা চূড়ান্তভাবে চাপ প্রয়োগ করে বাস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকেই। সেজন্যই দেখা গেল, প্রতিকার না পেয়ে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারকে চাপে ফেলার জন্য ডেকেছে ওই ধর্মঘট।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে অবশ্য জানা যায়, কর্মসূচিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এজন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ফেনীর মহিপালে ওভারপাস তৈরি নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়ে গেছেন তারা। কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আরও দুই স্থানে রেল ওভারপাস নির্মাণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। কুমিল্লায় নির্মিত ওভারপাসটি অবশ্য চালু হয়ে গেছে এর মধ্যে। এখন ২৫ দিনের মধ্যে তথা ঈদের আগে মহিপাল ওভারপাসের কাজ সম্পন্ন হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে আমরাও আশাবাদী হতে চাইব। তার এমন বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়েই সম্ভবত ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রয়েছে তাদের দায়িত্ববোধের প্রকাশও। ওখানে বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রয়াসও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেল। রফতানিমুখী শিল্পের যানবাহনকে গুরুত্ব দেওয়ার খবর রয়েছে এক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় কোনো সড়কপথে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের আটকে থাকাটাও উদ্বেগজনক। এ মহাসড়কে তিনটি নদীপথের ওপর নতুন করে ‘দ্বিতীয় সেতু’ও নির্মিত হচ্ছে। ওইসব স্থানে গিয়ে যানবাহন যাতে থেমে না যায়, সেজন্যই এ ব্যবস্থা। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সেগুলোর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে। তাহলে এসব স্থানেও যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা। তাতে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার সুফল মিলবে। এর আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের কোথাও যেন যানজট পরিস্থিতির চরম অবনতি না ঘটে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।