এসএমই

মাছ কেটে চলে সংসার

Exif_JPEG_420

রংপুরের অসচ্ছল ২৫ থেকে ৩০ নারী মাছ কাটা পেশায় জড়িত রয়েছেন। এ কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। কয়েক বছর আগেও যারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন, তারাই এখন মাছ কেটে সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা।
তাদের ছেলেমেয়েরাও করছে লেখাপড়া। তাদের এ সাফল্যে এলাকার কর্মজীবী মানুষেরাও খুশি। তবে তাদের বসার জন্য নির্ধারিত কোনো সেড না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাছ কাটতে হয়। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে জায়গা ভাড়াসহ পানির জন্য ১০ টাকা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ১৫ টাকা দিতে হয় তাদের। এরপরও তারা কাজ করে খুশি।
নগরীর সিটিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ধারালো বটি দিয়ে যন্ত্রের মতো হাত চলছে এসব নারীদের। পায়ে বটি রেখে কাঠের ওপর সারাক্ষণ তারা মাছ কাটেন। মাছ কাটার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাদের দিন। এতেই চলে জীবন ও সংসার।
মাছ কাটা পেশায় জড়িত নগরীর মজিবর মিয়ার স্ত্রী শেফালি বেগম (৪৫) বলেন, আমার স্বামীর বাড়ি নাটোরে। স্বামীর নির্মম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে রংপুরে বোনের বাড়িতে চলে আসি। বোনের অভাবের সংসারে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। কাজের সন্ধানে বের হলে সিটিবাজারে এক দোকানদার কিছু মাছ কাটার কথা বলেন। এভাবে শুরু হয় তার কর্মজীবন। প্রথমদিকে কাজ কম হলেও টানাটানি করে সংসার চলত। শেফালী বেগম এ কাজ করে দুই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। জমিও কিনেছেন। বর্তমান ছেলে ও ছেলের বউসহ নাতি-নাতনি নিয়ে ভালোই কাটছে তার দিন।
সাড়ে তিন বছর আগে এ কাজ শুরু করেন গুরাতিপাড়ার শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৪৫)। একই এলাকার মতিন মিয়ার স্ত্রী সালেহা (৫০), খেরবাড়ির বাকি মিয়ার স্ত্রী হাজরা বেগম (৪০) ও তার ননদ মাজেদা বেগম, মুলাটেলের কফিল মিয়ার স্ত্রী শ্যামলী বেগম (৩৪), জুম্মাপাড়ার সাজুর স্ত্রী আমেনা খাতুন, সিগারেট কোম্পানির ময়না বেগম, তহমিনা বেগমসহ অনেকে। তাদের কারও স্বামী নেই আবার কারও স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন। কারও স্বামী অন্য পেশায় জড়িত আছেন।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাছ কাটার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। আর প্রতিদিন একজন নারী সব খরচ বাদ দিয়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা আয় করেন। তারা বলেন, যত বেশি কাজ তত বেশি টাকা।
তাদের জীবনের গল্প যেন বিভীষিকাময়। এক সময় সংসারের ঘানি টানতে কেউ কেউ ভিক্ষা ও গৃহকর্মীর কাজ। এ পেশায় এসে এখন তারা সাবলম্বী। প্রতি কেজি ছোট মাছ কাটতে ২০ টাকা, ৫ কেজির উপরে বড় মাছের জন্য ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, এক কেজি শিং মাছ কিনেছি। এখন এখান থেকেই কেটে বাড়িতে নেব। তারা অল্প টাকার বিনিময়ে কাজটি করছে। কর্মসংস্থান হয়েছে দুঃখী নারীদের। আমি মনে করি, তারা মানুষকে এক ধরনের সেবা দিচ্ছেন।

নুর আলম, রংপুর

সর্বশেষ..