সম্পাদকীয়

মানসম্পন্ন রেললাইন নির্মাণে উদ্যোগ নিন

রেলপথ নির্মাণে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ হিসেবে নাম রয়েছে বাংলাদেশের। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয়ের বড় ব্যবধান থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বছর কয়েক আগে। ওই সময় বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর রেলপথ নির্মাণব্যয়ের তুলনা করা হয়।
জানা গেছে, উন্নত দেশগুলোয় প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে গড় ব্যয় হচ্ছে ৩১ কোটি টাকা। বাংলাদেশে সর্বশেষ ঢাকা-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। ভারতে সাধারণ সিঙ্গেল লাইনের রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারে গড়ে ব্যয় হয় ১২ কোটি টাকা, পাকিস্তানে ১৫ কোটি টাকা। চীনে ট্রেন চলাচলের জন্য ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগের রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা। আর সাধারণ সিঙ্গেল রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সামগ্রিক উন্নয়নে রেলপথের অবদান কম নয়। এর অপরিহার্যতার কথা বিবেচনা করলে বেশি ব্যয় গ্রহণযোগ্য। নির্মাণে উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার করলে ব্যয় বাড়বেই। এতে অবকাঠামো-স্থাপনার স্থায়িত্ব ও আয়ুষ্কাল বেশি হবে এটিই প্রত্যাশিত।
এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে ‘দেশে মানসম্পন্ন রেললাইন ২৫.২৩ শতাংশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় ৪০২টি রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি রেলওয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বেশি ব্যয়ে নির্মিত রেলপথ মানসম্পন্ন নয়, এটি যুগপৎ হতাশাজনক ও বিস্ময়কর। মনে হবে, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় দেশের কোটি কোটি টাকা অপচয়ই হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠবে, তবে কি নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছিল না?
আমরা জানি, রেলপথ নির্মাণ দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ। রেল সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আমদানিনির্ভর। এ পর্যায়ে উচ্চহারে আমদানি শুল্কও পরিশোধ করতে হয়। তাছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নির্মাণ খরচ বাড়ে। এভাবে পরবর্তী বিভিন্ন সময় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু ব্যয়ের সুফল না পেলে তা হবে দুঃখজনক।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে আনাও প্রয়োজন। অতিরিক্ত ব্যয় হবে অথচ অবকাঠামো মানসম্পন্ন হবে না; আবার ওই স্থাপনার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণেও ফিবছর রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হবে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ব্যয় কমাতে দেশের কারখানাগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। সরঞ্জাম তৈরির জন্য কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। তা হলেই মানসম্পন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মিত হবে।

সর্বশেষ..