মত-বিশ্লেষণ

মানসম্মত শিক্ষার চ্যালেঞ্জ

শরীফুর রহমান আদিল: বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে এবং বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে সব খাতে উন্নয়ন হলেও শিক্ষা খাত পিছিয়ে। বাজেটে কমছে বরাদ্দ। ভারকি ফাউন্ডেশনের প্রায় সব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষকের মান সূচকের নিম্নমুখী। এছাড়া ফাউন্ডেশনস অব ওয়েলবিইং ডাইমেনশনসের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮। অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকের দিকে এখনও পিছিয়ে। সুতরাং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানে রূপকল্প ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে কিংবা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে সূচকে অগ্রগামী হতে হলে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষায় বাজেট বাড়াতে হবে: বাজেটের আকার ক্রমেই বড় হচ্ছে। সে হিসেবে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে না। টাকার অঙ্কে কিছু বাড়লেও শতকরা হিসাবে এটি উল্লেখযোগ্য নয়। যেমন ২০১০-১১ বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক দুই শতাংশ কিন্তু পরের বাজেটগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে হয়েছে যথাক্রমে ১২ দশমিক চার, ১১ দশমিক পাঁচ ও ১১ দশমিক চার শতাংশ। ২০১৭-১৮ বাজেটে এ খাতে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক ছয় শতাংশ করলেও কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ কমে তা দাঁড়ায় বরাদ্দ ১১ দশমিক ৪১ শতাংশে। শিক্ষায় মানোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ২৩ শতাংশ বাজেট এ খাতে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশকে তার জিডিপির ছয় শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে, বর্তমানে বাংলাদেশ জিডিপির দুই শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করে। অথচ সামরিক খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ ব্যয় করে।
শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ: শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এমপিওভুক্ত বলে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে জাতীয়করণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সরকার আরও কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারে আর না পারলে তাতে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেবে। এককথায় দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে ৭০ শতাংশ আর সম্পূর্ণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে ৩০ শতাংশ। আর এটি বাস্তবায়নে সরকার রূপকল্প গ্রহণ করতে হবে।
সবার জন্য সরকারি শিক্ষা: স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি কলেজ হয়েছে মাত্র ৭০০টি! আর এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই শহরকেন্দ্রিক। ফলে গ্রাম কিংবা তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা পেতে পারছে না নিম্ন আয়ের মানুষের। সবার জন্য শিক্ষা সেøাগান বাস্তবায়নের পথে থাকলেও সবার জন্য সরকারি কিংবা কম খরচে শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। জনগণের দোরগোড়ায় অন্যান্য সরকারি সেবা যেভাবে মানুষ ভোগ করছে সেভাবে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ ও তাদের সন্তানদের জন্য সরকারি শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ধনীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা, গরিবের জন্য নিম্নমানের শিক্ষা এই বৈষম্য প্রকট হচ্ছে; সঙ্গে সঙ্গে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর গরিবরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারছে না।
শিক্ষক নিয়োগে প্রথম শ্রেণি নির্ধারণ: শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার কোনো স্তরে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তৃতীয় শ্রেণি তুলে দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণি ও মাধ্যমিকে একটি দ্বিতীয় শ্রেণি, তিনটি প্রথম শ্রেণি করা, একইসঙ্গে এ দুটি স্তরের কোনো ক্ষেত্রেই মাস্টার্স পাসের কম কোনো প্রার্থীকে আবেদনের সুযোগ না দেওয়া। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য শিক্ষক নিয়োগে সব স্তরে প্রথম শ্রেণি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে সহকারী, সহযোগী অধ্যাপক, ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির জন্য এম ফিল/পিএইচডি বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতায় অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতার মধ্যে রাখতে হবে। শিক্ষকতায় মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাবিদরা সবসময় দাবি জানালেও এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এ তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্তরা শিক্ষকতার জন্য আবেদন করার সুযোগ করে দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে সেকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত বিধিতে শিক্ষক নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণি। ২৭ বছর পর শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথম শ্রেণি ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয় কিন্তু উল্টো তৃতীয় শ্রেণিকে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ করে দিল মন্ত্রণালয়! অবিলম্বে এ নীতিমালা বাতিল করে উপরোক্ত নিয়মে নীতিমালা প্রণয়েনের দাবি এখন সময়ের।
এমপিও প্রথা বন্ধ করা: এমপিও প্রথার জন্য নন-এমপিও শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও মূলত এমপিও প্রথা শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বাজে ও অকার্যকর পদ্ধতি সাবেক অর্থমন্ত্রীর সুরে বললে এটি রাবিশ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়া অসম্ভব। কেননা এখানে নেই বদলির ব্যবস্থা, রয়েছে অশিক্ষিত ও পেশিশক্তি ব্যবহারকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালনা পর্ষদ। শিক্ষকদের দলাদলি, শিক্ষক কর্তৃক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তোষামোদ, বেতন, বাড়ি ভাড়া, ঈদ বোনাসের জন্য আন্দোলন, মূল্যহীন অভিজ্ঞতা, শিক্ষক হয়েও সেলসম্যানের রূপ ধারণ করা, এম ফিল, পিএইচডিকে মূল্যায়ন না করা, প্রৌঢ়ত্বে বেকার হওয়ার ঝুঁকি, গবেষণার সুযোগ না থাকা, তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্তদের নিয়োগ, সবই এমপিওভুক্ত শিক্ষার করুণ দশার বহিঃপ্রকাশ।
নিয়োগে স্বচ্ছতা: রাজনৈতিক পরিচয়ে তুলনামূলক কম মেধাবীদের সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ মাঝে মাঝে উত্তপ্ত হওয়ার পেছনে এসব নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখার স্বার্থে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গঠিত এনটিআরসিএ-কে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
গবেষণায় বরাদ্দ: বাংলাদেশে ৪০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয় না। বলতে গেলে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে কোনো বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয় না। নামমাত্র যে বরাদ্দ রাখা হয় তাও অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ উন্নত বিশ্বে সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারিভাবে যেসব গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকেও সরকার সহায়তা করে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্দি করে সরকারিভাবে বিভিন্ন পোস্ট ডক্ট্ররাল প্রতিষ্ঠান খোলা প্রয়োজন।
স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো: গত তিন বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-কমিশন গঠন করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। ফলে কর্তাব্যক্তিদের আশ্বাসে সেই আন্দোলন থেকে সরে আসে শিক্ষকরা; একইসঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও কমিশনের কথা বলা থাকলেও এখনও তা কার্যকর করা যায়নি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শতভাগ বেতন পাচ্ছে সরকার থেকে। উৎসব বোনাস ২৫ শতাংশ। আট বছর চাকরির অভিজ্ঞতার জন্য বেতন বৃদ্ধি হিসেবে পাবে ১০০০ টাকা! আর পদোন্নতিতে রয়েছে ৫:২ অনুপাত। মোটকথা হলো, গ্রেড-৯-এ একজন প্রভাষক যোগদান করলে ৬০ বছর বয়সে তার বেতন হবে ২৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ একজন শিক্ষক ৩৫ বছর চাকরি করলে তার বেতন বৃদ্ধি হবে মাত্র ৭ হাজার টাকা! এ দৈন্যদশা থেকে মুক্তি দিয়ে সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষক সুরক্ষা আইন: শিক্ষকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, খুন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রভৃতি এখন স্বাভাবিক ঘটনা। শিক্ষক সুরক্ষা কোনো আইন না থাকায় এই সম্প্রদায়ের এই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে! বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের চিত্র, নারায়ণগঞ্জে এমপি কর্তৃক শিক্ষককে কানে উঠবস করানো, বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের লাশ উদ্ধারের ঘটনা থেকে শিক্ষকদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। শিক্ষকতা পেশা হিসেবে এদের মান-মর্যাদা থাকার কথা অনেক উপরে এবং এদের এ বিষয়ে সুরক্ষা পাওয়ার কথা বা এ-সংক্রান্ত একটি আইন থাকার কথা কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষক সুরক্ষা আইন বলে কিছু নেই যেই দেশ শিশুদের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরনের আইন রয়েছে। গত বছর সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় আইন হলেও শিক্ষকদের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সরকার বিনা মূল্যে বই বিতরণ করে প্রশংসার ভাগী হয়েছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সময়সূচি ১০-৪টা পর্ষন্ত। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রাইভেট কিংবা স্পেশাল ক্লাস করতে হয়। তাই হয় বইয়ের বিদ্যালয়ের সময় পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিতে হবে; অন্যথায় শিক্ষার্থীদের দুপুরে টিফিনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও প্রাথমিকে সীমিত আকারে টিফিনের ব্যবস্থা রয়েছে তথাপি তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
শিক্ষক রাজনীতি বন্ধে আইন: উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শিক্ষকরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা রাজনীতির প্রতি অতি আগ্রহী। রাজনীতি পদে থাকা, রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়া-নেওয়া, রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা, পক্ষপাতিত্ব, শিক্ষকদের মধ্যে রেষারেষি প্রভৃতি এখন দেশের অধিকাংশ শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং মানসম্মত শিখন নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যে শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে যত বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যাবে, ততবেশি মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। প্রত্যেক শিক্ষককে প্রতিবছর অন্তত একটি করে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়াতে হবে এবং চার-পাঁচ বছর অন্তর বিদেশে বিদেশি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
অতিরিক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধকরণ: সরকারের নির্দিষ্ট পলিসি, পরিকল্পনা কিংবা এ সেক্টরে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে, যশ-খ্যাতি কিংবা সুনামের জন্য অথবা দুর্নীতিবাজ বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রতিটি বাড়ির সামনে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার মানকে একেবারে তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরাই এমপিও ধরে রাখতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় এমসিকিউর উত্তর বলে দেওয়া ও পরীক্ষায় অনৈতিক সাহায্য করার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ছাত্র খুঁজে আনার প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একীভূত করা।
আন্তর্জাতিক সেমিনার: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম কিংবা সমাবেশে শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বৈশ্বিক যে ক্যাম্পেইন কিংবা প্রজেক্ট রয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা।
স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, নারী-পুরুষের সমতা ও নারী শিক্ষায় অগ্রগতি হওয়ায় পাঁচ বছর আগে বিশ্বব্যাংক ও ইউনেস্কো বাংলাদেশি শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। কিন্তু বর্তমানে নেতিবাচক মন্তব্য করছে। অন্যদিকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা যেমন ভারকি ফাউন্ডেশন, ফাউন্ডেশনস ওয়েলবিইং ডাইমেনশন্সসহ আরও অনেক সংস্থার গবেষণায় বাংলাদেশে শিক্ষার মান ও শিক্ষকের অবস্থান নিম্নগামী। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদরাও শিক্ষার মান ও শিক্ষা খাতে সরকারের অমনোযোগিতার সমালোচনা করছেন। দেশের উন্নয়নে রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে ঠিক, তেমনি শিক্ষার উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে রূপকল্প ঘোষণা করতে হবে।

কলেজ শিক্ষক ও গবেষক
[email protected]

সর্বশেষ..